যুদ্ধের ভয়াবহতা ভুলে টেনিস আনন্দে ইরানের সাফি

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধের ভয়ািবহতা আর বাজেট স্বল্পতার সঙ্গে লড়াই করে এশিয়ান গেমসে এসেছে ইরানের টেনিস দল। রবিবার তাদের দুই নারী খেলোয়াড়ের একক ইভেন্টে জয় পাওয়াটা উদযাপন করেছে পুরো ইরানি দল।
তাজিকিস্তানের শাহজোদা আসিমোভাকে ৬-০, ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছেন মেশকাতোলজাহরা সাফি। অপর ম্যাচে উজবেকিস্তানের সেভিল ইউলদাশেভাকে ৭-৫, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সাফির সঙ্গে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন মানদেগার ফারজামি।
২২ বছর বয়সী মেশকাতোলজাহরা সাফি ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম ইরানি হিসেবে জিতেছিলেন গ্র্যান্ড স্লাম জুনিয়র এককের ম্যাচ। জুনিয়র র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যেও ছিলেন তিনি। তবে পেশাদার টেনিসে পথচলাটা তার জন্য সহজ হয়নি। অন্য দেশে খেলতে যেতে বিমান টিকিটির টাকাও ছিল না তার।
এর মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ সেই চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবে সাফির মতে, এই সংঘাতের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির একটা বড় মাধ্যম হলো টেনিস। নাগোয়ায় সাফি বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে টেনিস খেলাটাই আমার জন্য এক ধরনের মুক্তি। এমনকি কয়েক মাস আগেও আমরা বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘আমার পুরোপুরি টেনিসে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অথচ অন্য কোনো দেশের খেলোয়াড়দের এসব নিয়ে ভাবতেই হয় না।’
ইরানের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এবং টেনিস ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তায় চার সদস্যের এই ইরানি টেনিস দলটি নাগোয়ায় পৌঁছাতে পেরেছে। এই গেমসের জন্য সাবেক শীর্ষ ডব্লিউটিএ ট্যুরের চারটি শিরোপাজয়ী ফরাসি-ইরানি খেলোয়াড় আরাভানে রেজাইকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আবাসন ও পরিবহন সংকটের কথা তুলে ধরে টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে কিছু অ্যাথলেট অভিযোগ করলেও সাফির তাতে কোনো ক্ষোভ নেই।
তিনি বলেন, ‘এমন একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আমাদের জন্য একটা স্বপ্নের মতো। সত্যিই অসাধারণ লাগছে। এখানে আমাকে দেখতে আসা দর্শকদের আমি দেখছিলাম, আর এখানকার সুযোগ-সুবিধাও দারুণ। আয়োজন থেকে শুরু করে কোর্ট—সবকিছুই এক কথায় চমৎকার। এখানে আমি নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।’




