মাইক্রোচিপ বাঁচিয়ে দিল রোনালদোর বিশ্বকাপ

ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর দিয়েগো জোতার স্মরণে পর্তুগালের খেলোয়াড়রা
মাত্র একটু স্পর্শ। সেটিও এতটাই সূক্ষ্ম যে টেলিভিশনের রিপ্লেতে বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু বলের ভেতরে বসানো মাইক্রোচিপ সেই স্পর্শ ধরে ফেলল। আর তাতেই বাতিল হয়ে গেল ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল, বেঁচে গেল পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। তখনো ২-১ গোলে পিছিয়ে ক্রোয়েশিয়া। পর্তুগালের বক্সে ভেসে আসা ক্রসে ইগর মাতানোভিচ বলে মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেন। এরপর বল যায় মারিও পাসালিচের কাছে, তার পাস থেকে জোসকো গাভার্দিওল গোল করেন। প্রথমে গোলের বাঁশি বাজালেও পরে ভিএআরের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বাতিল করেন রেফারি। বল ইগর মাতানোভিচের মাথার চুল ছোঁয়ার কারণেই পাসালিচ অফসাইড হয়ে যান!
অ্যাডিডাস ও কিনেক্সনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রযুক্তিতে অফিসিয়াল ট্রাইওন্ডা বলে একটি মোশন সেন্সর বসানো হয়েছে। সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে শত শত তথ্য সংগ্রহ করে এবং খেলোয়াড়ের প্রতিটি স্পর্শ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআর কক্ষে পৌঁছে যায়।
সম্প্রচারে যে গ্রাফটি দেখানো হয়, সেটি ক্রিকেটের স্নিকোমিটার প্রযুক্তির মতো। ক্রিকেটে ব্যাটে-বলের সামান্য স্পর্শ শনাক্ত করতে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার হয়, তেমনি ফুটবলেও বলের সেন্সর স্পর্শের মুহূর্তটি গ্রাফে দেখিয়ে দেয়। সেই গ্রাফেই দেখা যায়, মাতানোভিচের চেষ্টার মুহূর্তে বলে স্পর্শের একটি স্পাইক তৈরি হয়েছে। এরপর সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই স্পর্শের সময় পাসালিচ অফসাইডে ছিলেন। তাই গাভার্দিওলের গোল বাতিল করা হয়।
পরে ফিফাও জানায়, বলের সেন্সর সঠিকভাবেই মাতানোভিচের স্পর্শ শনাক্ত করেছে এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের কারণেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ। তার ভাষায়, ‘ভিএআর আবেগকে মেরে ফেলছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা অনেক দূর চলে গেছি।’
অন্যদিকে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস বলেছেন, ‘এখানে ভাগ্য বা ভুল সিদ্ধান্তের কিছু ছিল না। এখন বলের মধ্যেই চিপ আছে। সেন্সর স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে বলে স্পর্শ হয়েছিল।’
ম্যাচ শেষে আলোচনায় ছিল ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ। এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, এমন প্রশ্নে বিশ্বকাপ নকআউটে নিজের প্রথম গোল করা পর্তুগিজ মহাতারকা উত্তর দেননি। শুধু বলেছেন, ‘এখন আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় নয়। জিতি বা হারি, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেব। এখন আর আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিই না। সবকিছু শান্তভাবে করি। এই মুহূর্তে বর্তমানটাই উপভোগ করতে চাই।’
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে মন্তব্য না করলেও ক্রোয়াটদের হারানো যে সহজ ছিল না সেটা মেনে নিয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি, ‘আজ আমাদের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। প্রথমার্ধে আমরা ম্যাচটি বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলাটা অনেক বেশি এলোমেলো হয়ে যায়। ওরা গোল করার পর আমরা কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করার পর ম্যাচের আবেগঘন মোড়টা আমাদের দিকেই ঘুরে যায়। সেই মুহূর্ত থেকে ম্যাচটি আমাদের জন্য কিছুটা সহজ হয়ে যায়। এরপরও কিছু কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তবে এমন প্রতিযোগিতায় এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’




