যুদ্ধ শেষ মদরিচের

ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার মদরিচ
সকাল-বিকাল গুলির শব্দ, জ্বলন্ত ঘরবাড়ি, উদ্বাস্তু শিবিরের ধুলা। ৯ বছরের এক শিশুর শৈশব আর কতটুকুইবা রঙিন হতে পারত? বিধ্বস্ত শহরের অলিগলিতে যে ছেলেটা ফুটবল খেলত কিছুটা আনন্দ পেতে, সেই লুকা মদরিচ একদিন রাজত্ব করবে গোটা ফুটবল বিশ্বে, তা কে জানত! যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের একজন হয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চকে বিদায় জানালেন ক্রোয়েশিয়ার এই কিংবদন্তি।
১৯৯১ সালে যখন বলকান যুদ্ধ শুরু হয়, তখন মদরিচের বয়স মাত্র ছয়। সার্বিয়ান মিলিশিয়ারা তার প্রিয় দাদাকে চোখের সামনে গুলি করে হত্যা করে, পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঘরবাড়ি। জীবন বাঁচাতে পরিবারসহ মদরিচ আশ্রয় নেন জাদারের একটি রিফিউজি ক্যাম্পে।
যুদ্ধ শেষে শারীরিক ঘাটতি মদরিচ পুষিয়ে দিয়েছিলেন অসাধারণ ফুটবল মস্তিষ্ক এবং নিখুঁত পাসিং সেন্স দিয়ে। মদরিচের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন তরুণ মদরিচ। সময়ের সঙ্গে এই তরুণই হয়ে ওঠেন দলের প্রাণভোমরা। ২০১০ বিশ্বকাপে খেলেননি, ২০১৪-তেও ছিলেন বিবর্ণ।
মদরিচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে ২০১৮ বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে নকআউট পর্বে একের পর এক টাইব্রেকারের মানসিক চাপ; মদরিচের নেতৃত্বে সব বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। সেই আসরে দুই গোল করেছেন মদরিচ।
ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে ৪-২ ব্যবধানে হেরে ট্রফি ছোঁয়া না হলেও মদরিচ জয় করেছিলেন কোটি ভক্তের হৃদয়। আসরের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিতে নেন গোল্ডেন বলও। ২০২২ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সে নিয়ে ছিল বড় প্রশ্ন। ৩৬ বছর বয়সী মদরিচ সেবারও দেখিয়েছেন পায়ের জাদু। ব্রাজিল, মরক্কোকে টপকে টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয় ক্রোয়াটরা।
মদরিচের বিশ্বকাপ যাত্রা যে এভাবে থামবে, সেটা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। শেষ মুহূর্তে গোল পেলেও ভিএআরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে কপাল পোড়ে মদরিচদের। ২-১ গোলের এই হারে বিশ্বকাপকে বিদায় বললেন মদরিচ।
পর্তুগালের কাছে এমন হারের পরও মদরিচের মুখে ছিল হাসি। সব হারিয়েও যে এভাবে হাসিমুখে বিদায় নেওয়া যায়, মদরিচকে ফুটবল মনে রাখবে ঠিক এই দৃশ্যের কারণেই।




