ইংল্যান্ডের সামনে আফ্রিকার বিস্ময়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিকে ফুটবলের জন্মভূমির দীর্ঘদিনের শিরোপা-খরা ঘোচানোর স্বপ্ন, অন্যদিকে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখার ক্ষুধায় উজ্জীবিত আফ্রিকার এক সাহসী দেশ। সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতি, দুই ভিন্ন স্বপ্ন আর দুই ভিন্ন যাত্রার লড়াই। শেষ ৩২-এ মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গো। কঙ্গো কি ইংল্যান্ডকে চমকে দিয়ে গড়বে নতুন ইতিহাস?
ফেভারিটের তকমা যতই ইংল্যান্ডের গায়ে থাকুক, চমকের গল্প লেখার সুযোগটা কিন্তু সমানভাবেই থাকছে ডিআর কঙ্গোর সামনে।
গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দারুণ শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি হ্যারি কেইনের দল। ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র এবং পানামার বিপক্ষে ধীরগতির ফুটবলে জয় পেলেও মন ভরেনি সমর্থকদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও তাই ইংলিশদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
ডিআর কঙ্গো এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। পাঁচ যুগ পর বিশ্বকাপ খেলতে এসে গ্রুপ পর্বেই বাজিমাত করেছে আফ্রিকার দেশটি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই তারা রুখে দিয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল তারা।
শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ছিল না কঙ্গোর সামনে। পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউটে পৌঁছায় তারা।
ইংল্যান্ডের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন কেইন। বড় ম্যাচে গোল করার অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে। তার সঙ্গে বেলিংহামের বোঝাপড়া ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
ইয়োয়ান উইসা কঙ্গোর সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র। গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। কাউন্টার অ্যাটাকে তার গতি ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বিপাকে ফেলতে পারে।
ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর আগে কখনোই দেখা হয়নি। প্রথম দেখাতেই তাই ইংলিশকে চমকে দিতে চাইবে কঙ্গো। রাত ১০টায় আটলান্টার লড়াইয়ে মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর।
রাত ২টায় সিয়াটলে মুখোমুখি বেলজিয়াম ও আফ্রিকার সিংহ সেনেগাল। একদিকে বেলজিয়ামের প্রযুক্তিনির্ভর আক্রমণাত্মক ফুটবল অন্যদিকে শারীরিক শক্তি, গতি ও লড়াকু মানসিকতায় ভর করে আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল সেনেগাল। তাই এই ম্যাচটিও শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই।
বেলজিয়াম গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচেই পয়েন্ট হারায়। তবে শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রাখে কেভিন ডি ব্রুইনার দল। এই ম্যাচে সবার নজর থাকবে ডি ব্রুইনার দিকে। এই তারকা মিডফিল্ডার একাই বদলে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপথ।
আরেক ম্যাচে মুখোমুখি সান ফ্রান্সিসকোতে মুখোমুখি বিশ্বকাপের মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে শেষ ম্যাচে এসে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে বসনিয়া। এই ম্যাচে ফেভারিট স্বাগতিকরাই।




