এক ম্যাচে ১৫ সেভের কীর্তি

সংগৃহীত ছবি
জার্মানির বিপক্ষে হজম করেছিল ৭ গোল। দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ বলে খুব একটা হইচই হলো না। কিন্তু কেউ কি ভেবেছিলেন, ৭ গোল হজম করা কুরাসাও কিপার এলোয় রুমই পরের ম্যাচে করবেন রেকর্ড সেভের কীর্তি! ইকুয়েডরের বিপক্ষে অতিমানবীয় এক পারফরম্যান্সে রুম ফিরে আসেন যায়!
কুরাসাও যে আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে, তার জন্য কিন্তু এলোয় রুম একটা বিশেষ ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাই পর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল কুরাসাও। শেষ ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তাদের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়েছিল জ্যামাইকা।
রেফারির সেই সিদ্ধান্ত কিছুতেই মানতে পারছিলেন না এই গোলকিপার। তর্কের একপর্যায়ে রেফারিকে চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত ভিএআরের সাহায্যে নিতে বাধ্য হন রেফারি। আর এতেই বাতিল হয় সেই পেনাল্টি। ওই ম্যাচের মহা মূল্যবান ১ পয়েন্ট কুরাসাওকে নিয়ে আসে বিশ্বকাপের মঞ্চে।
রুমের কুরাসাওয়ের হয়ে খেলাটাও যেন নিয়তির অদ্ভুত এক খেলা। জন্ম তার নেদারল্যান্ডসে, খেলেছেন ডাচদের বয়সভিত্তিক দলেও। পরিবারের সঙ্গে কুরাসাওয়ে ছুটি কাটাতে এসেই দেশটির প্রেমে পড়েন, নেন নাগরিকত্বও। তার পথ অনুসরণ করে আরও অনেক ডাচ ফুটবলার কুরাসাওয়ে ফুটবল খেলতে পাড়ি জমান।
প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলের বড় হারের পর ইকুয়েডরের বিপক্ষে দেখা যায় ভিন্ন এক কুরাসাওকে। গোলপোস্টের সামনে রুমের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে কোনো গোল হজম করেনি দল। ৯০ মিনিটে রেকর্ড ১৫টি সেভ করেছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর অতিরিক্ত সময় ছাড়া নির্ধারিত ৯০ মিনিটে এটাই সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।
ম্যাচসেরা হয়ে রুম খানিকটা মজা করেই বলেছেন, ‘এই ড্র অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। বিশ্বকাপে কুরাসাও প্রথম পয়েন্ট পেল। আমি গর্বিত, দলের জন্যই সেভ করেছি। সবাই ভালো ফলের জন্য লড়েছে। এবার মনে হয় দেশে আমার একটি ভাস্কর্য থাকা দরকার, তাই না?’




