আরও গতি দরকার স্পেনের

বল পজিশন, ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা, হালের সেনসেশন— স্পেনের সব গৌরবই যেন ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে এক কেপ ভার্দে। নিজেদের অর্ধে খেলার সুযোগ দিয়েছে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের, বিভিন্ন কায়দায় পাস খেলেও পারেনি কেপ ভার্দের রক্ষণ ফাঁকি দিতে। রক্ষণের পেছনে আবার গোলকিপার ভোজিনহার প্রতিরোধ। গোলের দেখা আর পায়নি বিশ্বকাপের টপ ফেভারিটরা।
প্রথম ম্যাচে স্পেনের এই আত্মসমর্পণ চমকে দিয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের চোখে, ‘কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণাত্মক মানসিকতা ছিল দেখার মতো।’ তবে স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে খেলার দর্শনে কোনো পরিবর্তন আনবেন না, ‘আমাদের দর্শন ধরে রাখতে হবে, তবে আমাদের আরও নিখুঁত হতে হবে। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, দরকার ছিল ধারালো ফিনিশিং।’ ফেরান তোরেস একাই চারটি সুযোগ নষ্ট করেছেন, কখনো অলক্ষ্যে শট কখনো-বা গোলকিপার সোজা মেরেছেন।
আমাদের দর্শন ধরে রাখতে হবে, তবে আরও নিখুঁত হতে হবে। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, দরকার ছিল ধারালো ফিনিশিং -দে লা ফুয়েন্তে
প্রথম ম্যাচে টপ ফেভারিট স্পেন নবাগতের কাছে আটকে যাবে কেউ ভাবেননি। কেপ ভার্দে প্রশ্ন চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে ফেভারিটদের রক্ষণভাগ ভাঙার সামর্থ্যের পাশে। স্পেন অধিনায়ক রোদ্রি মনে করেন, ‘এমন রক্ষণভাগ ভাঙতে হলে ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা লাগে, সঙ্গে থাকতে হয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। কিন্তু ফুটবলে এমনটা হতেই পারে। আমরা চেষ্টা করেছি, আমাদের খেলায় গতিশীলতাও ছিল, তবে কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে। আমরা জানি, কোনো দল যখন এত নিচে নেমে ডিফেন্স করে, তখন সুযোগগুলো কাজে লাগাতেই হবে, এটাই হলো আসল কথা।’
রক্ষণে কেপ ভার্দে এত নিখুঁত ছিল যে, পুরো ম্যাচ মিলিয়ে একটি মাত্র ফাউল করেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর এটি নতুন রেকর্ড
পরাশক্তিগুলোর মধ্যে জার্মানি ছাড়া কোনো দল সহজেই জেতেনি। তারা ৭-১ গোলে জিতেছে আরেক নতুন দল কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। কেপ ভার্দের বিপক্ষেও স্পেন গোল মিছিল করবে, ধারণা ছিল। স্প্যানিশ কোচও হয়তো তাই ভেবেছিলেন। শুরুর একাদশে রাখেননি ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসদের। বিরতির পর তাদের নামিয়েও পারেননি গোলের খরা মেটাতে। প্রতিপক্ষ এত ভালো রক্ষণ সামলেছে, ফাঁকা রাখেনি এতটুকু জায়গাও। কঠিন করে তুলেছিল পেদ্রি-ইয়ামালদের আক্রমণে ওঠা এবং অ্যাটাকিং থার্ডে নির্বিঘ্নে পাস খেলা। রক্ষণে কেপ ভার্দে এত নিখুঁত ছিল যে, পুরো ম্যাচ মিলিয়ে একটি মাত্র ফাউল করেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর এটি নতুন রেকর্ড।
দে লা ফুয়েন্তে জোর দিচ্ছেন দ্রুতলয়ে খেলার ওপর, ‘কখনো কখনো হয়তো আমাদের আরও দ্রুতগতিতে পাসিং ফুটবল খেলতে হবে, যেন জায়গা তৈরি হয়। কিন্তু বল যখন জালে যেতে চায় না, তখন সেটি যায় না। আমরা শট নিয়েছি, সুযোগ তৈরি করেছি। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ জেতাই কঠিন।’ এই ম্যাচ ড্র হওয়ার পর উরুগুয়ে-সৌদি আরবের ম্যাচও শেষ হয়েছে সমতায়। সুতরাং কঠিন হচ্ছে গ্রুপের সমীকরণটাও।




