মুখোমুখি দুই ‘গোলমেশিন’

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড
লিওনেল মেসি-ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ শেষের পথে। গত কয়েক বছরে তৈরি হয়েছে নতুন ব্র্যান্ডের লড়াই। কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হলান্ড। একজন গতির ঝড় তুলে রক্ষণভাগ ভেঙে ছত্রখান করে দেন, অন্যজন শক্তি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠেন। এ দুই ‘গোলমেশিন’ মুখোমুখি হচ্ছে গ্রুপ পর্বেই। গ্রুপ ‘আই’-এ ফ্রান্স-নরওয়ের ম্যাচটি শুধুই দুই দেশের লড়াই নয়; এটি দুই মহাতারকার মুখোমুখি যুদ্ধও।
দুই দল এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্ব। ফ্রান্স প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ে ইরাককে ৪-১ ও সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই পৌঁছে গেছে নকআউটে। দুই দলেরই ৬ পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে ফ্রান্স সামান্য এগিয়ে রয়েছে। ফলে ড্র করলেই গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবে দেশমের দল।
গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছে এমবাপ্পে ও হলান্ডের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা। দুজন খেলেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি দুই ক্লাবে। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পে ও ম্যানচেস্টার সিটির হলান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের দুই বড় অ্যাম্বাসাডর। এবারের আসরে দুই ম্যাচে এমবাপ্পে ও হলান্ড দুজনই করেছেন চারটি গোল। গোল্ডেন বুটের জন্য নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চাইবেন তারা।
ফ্রান্স ও নরওয়ে এর আগে মুখোমুখি হয়েছে ১৬ বার। ইতিহাসে ফ্রান্সের আধিপত্য থাকলেও নরওয়েরও কিছু স্মরণীয় সাফল্য রয়েছে। দুই দলের সবচেয়ে বিখ্যাত ম্যাচটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে, যখন নরওয়ে স্বাগতিক ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয় ২০১৪ সালের প্রীতি ম্যাচে, যেখানে ফ্রান্স ৪-০ গোলের বড় জয় পায়।
দিদিয়ের দেশমের দল আক্রমণে যেমন ধারালো, তেমনি রক্ষণেও দৃঢ়। দুই ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেছে তারা। সাত গোল করে নরওয়েও প্রমাণ করেছে, বড় দলগুলোর জন্যও তারা এখন বড় হুমকি। তারা হজম করেছে তিনটি গোল।
এই ম্যাচে ফ্রান্সের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এরই মধ্যে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন এই রিয়াল তারকা। প্রতিটি ম্যাচেই যেন নতুন কোনো রেকর্ড তার জন্য অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো নাজারিওকে, ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। এখন তার সামনে আছেন ১৮ গোল করা মেসি। অন্যদিকে নরওয়ের আশা-ভরসার নাম হলান্ড। ক্লাব ফুটবলে গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত এই স্ট্রাইকার অনেক দিন বিশ্বকাপ মঞ্চের অপেক্ষায় ছিলেন। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে সেই অপেক্ষার প্রতিদান দিচ্ছেন দুর্দান্তভাবে। মাত্র দুই ম্যাচেই চার গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপেও তার ক্ষুধা কম নয়।
ফ্রান্সের শক্তি শুধু এমবাপ্পে নন। দেম্বেলে, অলিসে, থুরামের মতো তারকারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন মুহূর্তেই। অন্যদিকে, নরওয়ের আক্রমণের প্রাণ হলান্ড হলেও মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র।
একদিকে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে নতুন ভাইকিংস শক্তির উত্থান। সময়ের দুই সেরা এমবাপ্পে-হলান্ডের গোলের লড়াই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের এ লড়াই ইঙ্গিত দিচ্ছে জমজমাট হওয়ার।




