ভিসা না দিয়ে সমালোচিত ট্রাম্প প্রশাসন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ব কাঁপছে বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দেশের অংশগ্রহণে হচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। অথচ কয়েকজন দুর্ভাগা আছেন, যারা চাইলেও পারছেন না বিশ্বকাপের ভেলায় ভাসতে। মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন-সংক্রান্ত কঠোর নীতিতে ভেস্তে গেছে তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রবেশাধিকার না দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনজীবী খায়রান নূর গত মাসে আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘যখন কোনো দেশ ফিফা বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন করে, তখন অনিবার্যভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কেন ফিফা এমন একটি দেশকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বেছে নিল?’ জাতিসংঘও ভিসা বাতিলের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্প্রতি।
সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান
৩৪ বছর বয়সী আরতানের সামনে ছিল প্রথম সোমালীয় রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার ইতিহাস গড়ার হাতছানি। তার সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় মিয়ামি বিমানবন্দরে। বৈধ মার্কিন ভিসা এবং সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রবেশাধিকার দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, ফেরত পাঠানো হয় ইস্তাম্বুলে। এ ঘটনায় আরেকবার প্রমাণিত হলো সোমালিয়ানদের ব্যাপারে ট্রাম্পের কঠোর নীতি।
ইরান দল ও কর্মকর্তা
চলমান ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে ক্রীড়াঙ্গনে টেনে এনেছে। অনেক আগে আবেদন করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ম্যাচের ১০ দিন আগে ইরানের খেলোয়াড়দের ভিসা দিয়েছে। সাপোর্ট স্টাফদের অনেকেই ভিসা পাননি।
হাইতির উডেন্সকি পিয়েরে
হাইতির ফুটবলার উডেন্সকি পিয়েরেকে ভিসা দিতে চরম গড়িমসি করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পুরো দলকে ভিসা দিলেও পিয়েরেকে অনেক পরে ভিসা দেওয়া হয়। বিলম্বে ভিসা পাওয়ায় এই মিডফিল্ডার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারেননি।
সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো
সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো ভিসা জটিলতার কারণে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আসতে পারেননি। ভিসা পাওয়ার পর তাকে একা ভ্রমণ করে আসতে হয়েছে।
কানাডা ভিসা দেয়নি ঘানার থমাস পার্টেকে
যুক্তরাষ্ট্রের মতো অতটা কঠোর হয়নি সহ-আয়োজক কানাডা। সম্প্রতি তারা ঘানার মিডফিল্ডার থমাস পার্টের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এজন্য পানামার বিপক্ষে ঘানার প্রথম ম্যাচে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন।
ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানে এআইপিএসের উদ্বেগ
বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ক্রীড়া সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রসহ তিন আয়োজক দেশে ভিসা আবেদন করেছিলেন। ফিফার অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিজ নিজ সংবাদমাধ্যমের বৈধ কাগজাদি নিয়ে আবেদন করেও অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাত থেকে আটজন ক্রীড়া সাংবাদিকও আছেন। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ও কঠোর সমালোচনা করে সম্প্রতি ফিফা ও ট্রাম্প সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিশ্ব সংস্থা এআইপিএসের সভাপতি জিয়ান্নি মারলো।
ভিসা নীতি নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছেন, ‘এটা ভীষণ স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার। আশা করব সবাই এখানে আসবে এবং বিশ্বকাপ উদযাপন করবে। কারণ, ফুটবল খেলাটা সবার জন্য। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সেটিই করবেন, যেটি তাদের করা উচিত।’


