ফিরে আসা জয়ের রেকর্ড

পিছিয়ে পড়েও কেইনের জোড়া গোলে কঙ্গোকে হারায় ইংল্যান্ড
২০২৬ বিশ্বকাপ একের পর এক নতুন ইতিহাস লিখেই চলেছে। সর্বোচ্চ গোল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দর্শক সংখ্যার উপস্থিতি— সব ক্ষেত্রেই রেকর্ড গড়ছে ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ফেরত আসা জয়ের বিশ্বরেকর্ডও।
গতকাল ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের নাটকীয় জয়, আর তার আগে সোমবার ব্রাজিলের শেষ মুহূর্তে ফেরা এই তিন ম্যাচের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে এমন ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১, যেখানে কোনো দল প্রথমে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে। এর মাধ্যমে ভেঙে গিয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপের ১০টি কামব্যাক জয়ের রেকর্ড। এক যুগ আগে সেই রোমাঞ্চকর ব্রাজিল বিশ্বকাপ নিয়ে নেদারল্যান্ডস ম্যানেজার লুইস ফন গাল বলেছিলেন, ‘এটি এক উন্মাদনাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। প্রতিটি স্টেডিয়ামেই একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে— কোনো দলই হার মেনে নিতে রাজি নয়। সম্মানজনক পরাজয় রক্ষা করেই সন্তুষ্ট থাকার মানসিকতা এখন আর কারও নেই।’ তার এই কথাটি প্রযোজ্য এবারের আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্যও, যেখানে শুরুতে গোল হজম করেও হার মানতে প্রস্তুত নয় কোনো দলই।
রেকর্ড ভাঙার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রাউন্ড অব ৩২-এর দুটি ম্যাচ। প্রথমে কঙ্গো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে যায় ইংল্যান্ড। এরপর সেনেগাল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও নির্ধারিত সময়ে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় ইউরোপের দলটি। সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ছিল মরক্কো বনাম হাইতির, যেখানে হাইতি প্রথম গোলটি করলেও ৪-২ গোলে হারতে হয়।
যেহেতু এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালসহ আরও চারটি পর্ব বাকি আছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে ফেরত আসা জয়ের সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে।
ফেরত আসা জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ার কয়েক দিন আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপ আরেকটি কীর্তি গড়েছিল। চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জয়, অথবা অন্তত চার গোল করে তিন গোলের ব্যবধানে জয়— এই মানদণ্ডে এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে ১৩টি বড় ব্যবধানে জয় দেখা গিয়েছে। এর আগে এক আসরে সর্বোচ্চ ১১টি এমন জয় হয়েছিল ১৯৫৪ বিশ্বকাপে।




