ইতিহাসের চাকা ঘুরল মার্তিনেল্লির গোলে

গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি
আর এক মিনিট হলেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ মিনিটে জাপানের বক্সের বাইরে এনদ্রিক সহজেই হারান বলের দখল। তবে জাপানও বলটি ক্লিয়ার করতে পারেনি। তখন বল যায় ব্রুনো গিমারেসের পায়ে। প্রথমে তিনি নিজে শট নেওয়ার মতো জায়গা তৈরির চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বুঝে অসাধারণ ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির কাছে। এটি তো নষ্ট করা যায় না, তিনি নিখুঁত এক শটে বলটি দূরের পোস্টের কোণে জড়িয়ে দেন। জাপানের গোলকিপার সুজুকি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আঙুলের ডগা ছুঁইয়েছেন। তাতে পোস্টের বাইরে ঠেলতে পারেননি। নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে মার্তিনেল্লি হিউস্টনের মাঠে হলুদের ঢেউ তুলে দেন।
একটা অসহনীয় চাপ উগড়ে ব্রাজিল পৌঁছে গেল শেষ ষোলোতে। জাপানের হুংকার, সমর্থকদের শঙ্কা— সব মিলিয়ে মারাত্মক চাপে ছিল সেলেসাওরা। প্রথমে গোল খেয়ে বসলে সেই চাপ আরও দ্বিগুণ হয়। বিরতির পর তারা ফেরে পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে, দুই গোল করে জাপানকে হারিয়ে নিজেদের দাপট দেখায়। ২০১৪ সালের জুনে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে প্রথম গোল হজম করেও জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। মাঝের পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে তারা আর জিততে পারেনি।
শুধু তাই নয়, ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে বিরতিতে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল। অর্থাৎ, ২৪ বছর পর প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের কীর্তি গড়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
তবে জয়টা সহজে আসেনি। প্রথমার্ধে জাপান ভালো খেলেছে এবং গোল করে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা বাড়তি গতি, চাপ ও আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালে তাল মেলাতে পারেনি জাপান। এটি হয়তো ব্রাজিলের ইতিহাসের ঝলমলে দল, কিন্তু এই দলকে লড়াই করার মানসিকতা ও প্রতিকূল পরিবেশে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো করে তৈরি করেছেন কার্লো আনচেলত্তি।
এই ইতালিয়ান কোচের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ছিল তার খেলোয়াড়দের ওপর, ‘আমরা ধৈর্য হারাইনি। মাঠে ও বেঞ্চে আমাদের অনেক বিকল্প ছিল। জাপান মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। তারা সুসংগঠিত ও তীব্র গতির ফুটবল খেলে। আমি নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিলাম। যদি আমরা দ্বিতীয় গোলটি করতে না পারতাম, তাহলে ম্যাচের ১০৫ মিনিটে তাকে নামানো হতো। আমি দলের কাঠামো পরিবর্তন করতে চাইনি। কারণ দল তখন ভালো খেলছিল।’
তার বিশ্বাসেই সত্যি হয়েছে। ইতিহাসের পাতা উল্টো দিকে ঘোরাল আনচেলত্তির ব্রাজিল। ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি।




