রোনালদো প্রমাণ দিলেন ‘ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বলতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আরেকটি নাম চলে আসে— লিওনেল মেসি। বিগত দুই দশকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন এই দুজন। ক্লাব ফুটবলে তাদের এমন কিছু নেই, যা তারা অর্জন করেননি। তবে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে দুজনেরই সাফল্যের কিছুটা ফারাক আছে। তারা দুজন দুটি ভিন্ন মহাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন— রোনালদো ইউরোপ এবং মেসি লাতিন আমেরিকা।
মেসির বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা না জেতা নিয়ে যেমন কথা হতো, রোনালদোর বেলায়ও ইউরোপিয়ান কাপ বা বিশ্বকাপ জয় নিয়ে একই আলোচনা ছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি সেই অধরা ট্রফি অর্জন করেন এবং কোপা আমেরিকায়ও চ্যাম্পিয়ন হন দুবার। রোনালদো এদিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে, ইউরোপিয়ান কাপ (ইউরো) এবং উয়েফা নেশনস লিগ জিতলেও বিশ্বকাপ অধরা রয়ে গেছে। আর এই বিশ্বকাপ জেতা না জেতাই এখন সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দুজনের মধ্যে কে বড়, তা নিয়ে আলোচনায় বিশ্বকাপের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি চলেই আসে। জোগায় বিতর্কের খোরাক।
সমালোচনার কড়া জবাব রোনালদো দিয়েছেন মঙ্গলবার রাতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। জোড়া গোল করেছেন, যার প্রথমটি ছিল একটি লো ক্রস থেকে। চমৎকার টেকনিক সিলেকশন ও ফিনিশিংয়ে করেছেন সেই গোল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের চমৎকার পাস থেকে আসা কাউন্টার অ্যাটাকে করা দ্বিতীয় গোলে আরেকবার বুঝিয়েছেন গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে বল জালে জড়ানোর চিরচেনা কোয়ালিটি।
লুইস ফিগো, রুই কস্তাদের পর্তুগালের সেই সোনালি প্রজন্ম এখন আর নেই। এমনকি বাংলাদেশে বা সারা বিশ্বে পর্তুগালের যে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তা মূলত এই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কারণেই। একজন খেলোয়াড় নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেলে একক ক্ষমতায় এমন সমর্থন তৈরি করতে পারেন, তা বিশ্ববাসী জানে।
নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে প্রতি আসরে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। বর্তমানে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১০টি, যার মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি ইউসেবিওর রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। সমালোচনা থাকবেই, তবে মঙ্গলবার রাতে জোড়া গোলে আবারও প্রমাণ করলেন— ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’।




