নেদারল্যান্ডসের ‘বি’ দল কুরাসাও

ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে আরব আমিরাত, ওমান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখলে মনে হয়, এই দলগুলো ভারত বা পাকিস্তানের ‘বি’ দল। বিভিন্ন সময়ে ভারত বা পাকিস্তানে পেশাদার ক্রিকেট খেলে অভিবাসী হয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমানোরাই খেলেন এই দলগুলোতে। কুরাসাওয়ের অবস্থা অনেকটা তেমনই। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ২৬ ফুটবলারের ভেতর ২৫ জনেরই জন্ম কুরাসাওয়ের বাইরে নেদারল্যান্ডসে। তারা খেলেনও ইউরোপের বিভিন্ন লিগে। তাদের নিয়েই ডিক আদফোকাত করেছেন বাজিমাত।
কুরাসাও ২০১০ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জের অংশ ছিল এবং এখন এটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ হলেও নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এর নাগরিকরা ডাচ পাসপোর্ট ধারণ করতে পারেন এবং ইউরোপে বসবাসের সুযোগ পান। তাই অনেক তরুণের জন্য নেদারল্যান্ডসে যাওয়া প্রায় স্বাভাবিক একটি বিষয়। দলের বেশিরভাগ ফুটবলারই ডাচ লিগে খেলেন, একজন করে ফুটবলার আছেন মালয়েশিয়া ও ইসরায়েলের ফুটবল লিগে খেলছেন। এই দলের বেশিরভাগ ফুটবলারই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলেছেন। দলের অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার লিয়ান্দ্রো বাকুনার কথাই ধরা যাক। এই মিডফিল্ডার নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২১ পর্যায়ে খেলেছেন। ইংলিশ লিগের দল অ্যাস্টন ভিলা, রিডিং, কার্ডিফ সিটিতে লম্বা সময় খেলে এখন পাড়ি জমিয়েছেন তুরস্কে। বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছেন কুরাসাওকে, তবে সেই দ্বীপে বাকুনা জন্মাননি বা সেখানে খেলেনও না। তাই ক্ষুদ্র জনসংখ্যা ও আয়তন দিয়ে কুরাসাওয়ের শক্তি মাপাটা হবে বোকামি। কুরাসাওয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতা রানগেলো জাঙ্গা। পিতা-মাতা কুরাসাওয়ের বাসিন্দা ছিলেন, জাঙ্গার জন্ম রটারডামে। সুইস লিগ, ডাচ লিগ, রোমানিয়ান লিগসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খেলে এখন খেলছেন আইন্দহোফেনে। দলের বেশিরভাগ ফুটবলারের গল্পটা এমনই।
দলটির কোচ ডিক আদফোকাত এই বিশ্বকাপে পা রেখেছেন সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে। তবে জেনিট সেন্ট পিটার্সবার্গকে উয়েফা কাপ ও সুপার কাপ জেতানো, গ্লাসগো রেঞ্জার্সকে ঘরোয়া লিগ ও কাপ জেতানো, আইন্দহোফেনকে লিগ ও কাপ জেতানোর কৃতিত্ব তার আছে। ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপে ডেনিস বার্গক্যাম্প, রোনাল্ড কোমানদের দলটা এসেছিল আদফোকাতেরই কোচিংয়ে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হয়ে এসেছিলেন এই ডাচ, সেবার কোরিয়ানদের নিয়ে রুখে দিয়েছিলেন ফ্রান্সকে। তাই জার্মানদের রুখে দেওয়ার নীলনকশা আদফোকাত করতেই পারেন নেদারল্যান্ডসের ‘বি’ দল নিয়ে। আর সবাই তো জানেই, ডাচদের সঙ্গে জার্মানদের ফুটবল বৈরিতা বহু পুরনো!


