কেপ ভার্দে দুঃস্বপ্ন ভোলার চ্যালেঞ্জ স্পেনের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হুট করেই স্পেন শিবিরে হানা দিয়েছে অস্বস্তি। লা রোসারা ফুরফুরে মেজাজেই পা রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। ইউরোপ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে এসেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপের লক্ষ্যে। তবে প্রথম ম্যাচেই শিরোপা স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। তাই আজ সৌদি আরবও স্পেনের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।
র্যাংকিংয়ের বিশাল ব্যবধানকে তুচ্ছ প্রমাণ করে আফ্রিকান ছোট্ট দ্বীপ দেশের ফুটবলাররা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যান প্রবল প্রতিপক্ষের সামনে। ৪০ বছরের ভোজিনহার নেতৃত্বে রক্ষণের সৈনিকরা পোস্টের সামনে গড়ে তোলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ফেরান তোরেস, পেদ্রি, কুকুরেয়া, ওয়ারসাবালরা পারেননি সে প্রাচীরে চিড় ধরাতে। তাতেই স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ। পুঁচকে কেপ ভার্দেতে হোঁচট খাওয়ার পর সৌদি বধের পরিকল্পনা সাজানোও তার জন্য কঠিন।
‘এইচ’ গ্রুপের চার দলের থলেতেই আছে ১ পয়েন্ট করে। স্পেনকে থমকে দেওয়া কেপ ভার্দের মতো শক্তিতে এগিয়ে থাকা উরুগুয়েকে জিততে দেয়নি সবুজ বাজপাখিরা। ১-১ ড্রয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে সৌদি এবার চাইবে স্পেনকে থমকে দিতে। গত আসরে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দেওয়া সৌদি সে স্বপ্ন দেখতেই পারে।
যদিও অতীতে ওরকম বীরত্বের কোনো নজির গড়তে পারেনি সৌদি। মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেন শতভাগ সফল তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতে। গড়ে প্রতি ম্যাচে তিনটি করে গোলেরও সুখস্মৃতি সঙ্গী হবে স্পেনের। ২০১২ সালে ৫-০ এবং ২০১০ সালে ৩-২ ব্যবধানে জয় পাওয়া স্পেনের বিপক্ষে অবশ্য ২০০৬ সালে প্রথম সাক্ষাতে কিছুটা লড়াই উপহার দিতে পেরেছিল সৌদি, সে ম্যাচটা তারা লড়াই করে হেরেছিল ১-০ ব্যবধানে।
কেপ ভার্দেতে তাল-লয় কেটে গেছে ঠিক। তবে এই স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাই প্রবল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারুণ ছন্দে ছিল দলটি। কেপ ভার্দে সব ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণ না করলে এত চিন্তার কিছুই ছিল না ফুয়েন্তের দল নিয়ে। কেপ ভার্দের ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল দখল এবং লক্ষ্যে ২৩টি শট, ৭০০-এর বেশি পাসের অঙ্কগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে গোল বাদে সবই করেছিল স্পেন।
প্রথম ম্যাচে না হলেও আজ তাদের খুঁজে পেতে হবে সৌদির গোল দরজা। সেটি খুলতে না পারলেই সর্বনাশ। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই বিশ্বমঞ্চে কেন যেন পেরে উঠছে না স্পেন। ২০১৪-তে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। শেষ দুই আসরে শেষ ষোলোতে থমকে যাওয়া। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর অবশ্য শেষ তিনবারের ব্যর্থতা ভোলার স্বপ্ন দেখেছিল তারা। স্বপ্নপূরণে পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ। সে পথেই এবার তাদের সামনে সৌদি আরব।
ফুয়েন্তে একটা ব্যালান্সড দল নিয়েই ঝাঁপিয়েছেন বিশ্বকাপ অভিযানে। তবে বিশেষ করে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠ ভীষণ শক্তিশালী। শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুই গোল হজম করা স্পেনকে ভালোই ভোগাচ্ছে গোল্ডেন বয় লামিন ইয়ামালের চোট। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নেমেছিলেন শেষ দিকে বদলি হিসেবে। আজও পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থা নেই, সেটি নিজেই বলেছেন। কোচের চাহিদা পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টার কথা বললেও পুরো সময় মাঠে থাকা অসম্ভব, সেটি সাফ জানিয়েছেন বার্সা তারকা। আক্রমণভাগের টাটকা ব্যর্থতা কাটাতে ইয়ামাল বড্ড প্রয়োজন। সঙ্গী হিসেবে বন্ধু নিকো উইলিয়ামসকে পেলে তো কথাই নেই। এই তরুণের একজনও যদি একাদশে আসেন, তবে জায়গা হারাতে হবে গাবিকে।
র্যাংকিংয়ে ৫৯ ধাপ পিছিয়ে থাকা সৌদি আরব নামবে উরুগুয়েকে রুখে দেওয়ার অনুপ্রেরণা নিয়ে। নয়া কোচ জর্জিওস দোনিসের অধীনে দলটিকে বেশ সুশৃঙ্খল মনে হয়েছে প্রথম ম্যাচে। কোচের কৌশল মেনে উরুগুয়ের কাজ কঠিন করে তোলা সৌদি সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চেষ্টা করবে গোল করার। ঘর সুরক্ষার প্রধান দায়িত্ব গোলকিপার মোহাম্মদ আল-ওয়াইসের। ভোজিনহার মতোই ওয়াইসও ভয়ডরহীন হয়ে উঠলে স্প্যানিয়ার্ডদের ভুগতে হবে নিশ্চিত।
স্পেনের সৌদি চ্যালেঞ্জ নেওয়ার এক ঘণ্টা পর আরেক এশিয়ান পরাশক্তির কাছে পরীক্ষা দিতে হবে ‘জি’ গ্রুপের ফেভারিট বেলজিয়ামকে। মিসরের কাছে পয়েন্ট খুইয়ে আসা বেলজিয়ানদের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্র করা ইরান।




