শিকড়ের টানে ক্ষমা প্রার্থনা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করা যেকোনো ফুটবলারের আজন্মের স্বপ্ন। গোল করার পর বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠাই যেখানে স্বাভাবিক দৃশ্য, সেখানে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। গোল করার পর উল্লাস তো দূর, উল্টো দুই হাত জোড় করে প্রতিপক্ষের গ্যালারির সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন গোলদাতা! তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলে জয়ের ম্যাচে সুইডেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারির এমন উদ্যাপনহীন গোল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সোমবার মেক্সিকোর মনটেরি স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সুইডেন ও তিউনিসিয়া। প্রথমার্ধেই তিউনিসিয়ান রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের দূর থেকে জোরালো শটে সুইডেনকে এগিয়ে নেন আয়ারি। কিন্তু বল জালে জড়ানোর পরপরই নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে দুই হাত জোড় করে তিউনিসিয়ার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান তিনি। যোগ করা সময়ের ৯৬ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের এক চোখধাঁধানো রকেট শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পরও বুনো উল্লাসে মাতেননি এ উইঙ্গার।
ব্রাইটনে খেলা ২০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের তিউনিসিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পেছনে রয়েছে পারিবারিক গল্প। সুইডেনের সোলনা শহরে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও আয়ারির মা উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর বাবা হলেন মরোক্কান। ফলে আয়ারির সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার বড় সুযোগ ছিল। এমনকি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তাকে দলে ভেড়ানোর জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জন্মভূমি সুইডেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিলেও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি আয়ারি। ইয়াসিনের গায়ে সুইডেনের জার্সি উঠলেও তিউনিসিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সংযোগ এখনো রয়ে গেছে। তার ছোট ভাই ত্বহা আয়ারি এখনো তিউনিসিয়া জাতীয় দলের রাডারে রয়েছেন।




