ভিনি-কুনিয়ায় কিংবদন্তির ছায়া

ভিনি-কুনিয়া জুটিই হয়ে উঠতে পারে ব্রাজিলের তুরুপের তাস
২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো আর রিভালদোর স্মৃতি ২০২৬-এ ফিরিয়ে আনছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর মাথেউস কুনিয়া। সেবার গ্রুপ পর্বে এই দুজনের প্রত্যেকেই গোল করেছিলেন, এবার ভিনিসিয়ুস গোল করেছেন গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই আর কুনিয়া প্রথম ম্যাচে সুযোগই পাননি, দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে সুযোগ পাচ্ছেন এবং দুই ম্যাচেই পেয়েছেন গোলের দেখা। কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে ব্রাজিল জিতেছিল পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা, রোনালদো করেছিলেন আট গোল আর রিভালদো পাঁচ গোল। হেক্সা মিশনে ভিনি-কুনিয়া জুটিই হয়ে উঠতে পারেন ব্রাজিলের তুরুপের তাস।
বার্সেলোনার হয়ে মাঝারি মানের একটি মৌসুম কাটিয়েই বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিলেন রিভালদো। ইন্টার মিলানে রোনালদোর মৌসুমটিও কেটেছিল গড়পড়তা। রিভালদো সেবার কাতালানদের হয়ে গোটা মৌসুমে করেছিলেন ৩৩ ম্যাচে ১৪ গোল, লা লিগায় আট গোল আর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয় গোল। রোনালদো ইন্টার মিলানে ১৫ ম্যাচে সাত গোল করেন। সেটিই ছিল ইন্টার মিলানে তার শেষ উপস্থিতি, বিশ্বকাপের পর রোনালদোও যোগ দেন বার্সেলোনায়। এ দুই ব্রাজিলিয়ান বোধহয় তাদের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন বিশ্বকাপের জন্যই। ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো সাত ম্যাচে করলেন আট গোল, সমান ম্যাচে রিভালদোর গোলসংখ্যা পাঁচ। এ দুইয়ের পায়ে ভর করেই এশিয়ার মাটিতে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপটি জিতে নেয় ব্রাজিল।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গেল মৌসুমটি মন্দ কাটেনি ভিনিসিয়ুসের। লা লিগায় করেছেন ৩৬ ম্যাচে ১৬ গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচ গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে এসে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনি, তিন ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। অন্যদিকে কুনিয়া তার প্রথম মৌসুম কাটালেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স থেকে ৬২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আসা কুনিয়া বিদায়ী মৌসুমে ম্যানইউর হয়ে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি নিঃসন্দেহে এই জানুয়ারিতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ের ম্যাচে জয়সূচক গোলটি, যে গোল ম্যানইউকে ২০১৭-এর পর প্রথমবার জেতায় আর্সেনালের মাঠে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগের এ দুই ফুটবলারেরই আছে শীর্ষস্তরে খেলার এবং চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার অভিজ্ঞতা। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের এই অভিজ্ঞতাই হতে পারে ব্রাজিলের অনন্য সম্পদ। ভিনির চারটি ও কুনিয়ার তিনটি গোল হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত। গোলের পর দুজনের উদযাপনের ভঙ্গিমাও দারুণ আনন্দ দেয় দর্শকদের। ভিনি তার নাচের জন্য বিখ্যাত আর কুনিয়া তার সার্ফিংয়ের ভঙ্গির জন্য। কুনিয়া কেন এভাবে উদযাপন করেন, সেটি জানিয়েছেন ম্যানইউর ওয়েবসাইটকে, ‘আমার বাড়ি জোয়াও পেসোয়ায় আর আমি সার্ফিং শুরু করি বাইয়া ফরমোসায় (যেখানে টোকিও অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হওয়া সার্ফিং ইভেন্টে সোনাজয়ী ইতালো ফেরেইরার বাড়ি)। সার্ফিং আমার জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে, সার্ফিং আমাকে প্রশান্তি দেয়, ইতালো আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি যতটা সময় ফুটবলে দিয়েছি, ততটা সময় সার্ফিংয়েও দিয়েছি।’
ব্রাজিল দলে কুনিয়ার গায়ে উঠেছে ঐতিহাসিক ‘৯’ নম্বর জার্সি, যেটি একসময় গায়ে দিতেন রোনালদো। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কুনিয়ার গোলের পর উদযাপনের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে দিয়ে রোনালদো ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন, ‘সবশেষ কোন ব্রাজিলিয়ান ৯ নম্বর জার্সিধারীকে এভাবে উদযাপন করতে দেখার পর কী হয়েছিল, সেটি সবাই জানে।’ কুনিয়াও উত্তরে লিখেছেন, ‘আমার গুরু, আমি গর্বে বাকরুদ্ধ। এই জার্সি সবসময় আপনার। যদি কোনো সাহায্য করতে চান, আমি নিতে রাজি।’




