আগামীর সময়

ম্যাচের পর সুপার ওভারও টাই, বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ

ম্যাচের পর সুপার ওভারও টাই, বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ

সুপার ওভার-নাটকে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়। ছবি: এক্স

শ্বাসরুদ্ধকর-রোমাঞ্চকর ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান লড়াই সবকিছুই দিল দর্শকদের। ম্যাচ টাই, এরপর সুপার ওভারও টাই! অবশেষে ডাবল সুপার ওভারে গিয়ে নিষ্পত্তি হলো ফল। সেখানেও নাটকীয়তার কমতি নেই। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মঞ্চায়িত হলো অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ। যেখানে জয়ীর বেশে মাঠ ছেড়েছে প্রোটিয়ারা।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ফল ছাপিয়ে ক্রিকেটীয় আনন্দ ও রোমাঞ্চের নতুন অনুভূতিতে ভাসিয়ে নিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। জয়ীর খাতায় লেখা থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। তবে মাঠের লড়াইয়ে আগানিস্তান ছিল সমানে সমান। ম্যাচের দুটি ধাপে ‘টাই’-এর চিত্র সেটাই জানান দিচ্ছে।

ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সমান স্কোর আফগানদের। প্রথম সুপার ওভারে আবার আগানিস্তানের সমান সংগ্রহ প্রোটিয়াদের। যদিও ম্যাচেই নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারত ফল। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটে করা ১৮৭ রান রশিদ খানরা টপকেই যাচ্ছিল প্রায়। শেষ ৩ বলে দরকার ছিল মাত্র ১ রান। কিন্তু নুর আহমেদ শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলে ম্যাচ হয়ে যায় ‘টাই’। ১৮৭ রানে শেষ হয় আফগানদের ইনিংস।

ফল নিষ্পত্তির জন্য গড়ানো সুপার ওভারে আগে ব্যাট করা আফগানিস্তান ১৭ রান তুলে চ্যালেঞ্জ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। লুঙ্গি এনগিদির ওপর ঝড় বইয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৫ বলে করেন ১৬ রান। ১৮ রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা হারতে বসেছিল। শেষ বলে জিততে দরকার পড়ে ৭ রান। ট্রিস্টান স্টাবস ওই বলে ছক্কা হাঁকালে সুপার ওভারও শেষ হয় ‘টাই’-এ।

নিয়ম মেনে, ফল নিষ্পত্তি করতে দ্বিতীয় সুপার ওভারে নামে দুই দল। এবার আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ডেভিড মিলারর তাণ্ডবে তুলে নেয় ২৩ রান। আফগানদের জন্য কঠিন লক্ষ্য। সেকারণেই কিনা দক্ষিণ আফ্রিকা আক্রমণে নিয়ে আসে স্পিনার কেশব মহারাজকে। এমন গুরুত্বপূ্র্ণ মুহূর্তে স্পিনারের হাতে বল তুলে দেওয়াটা অবাক করার বিষয়ই!

অবশ্য মহারাজ প্রথম দুই বলে সফল। কোনও রান না দিয়ে বরং তুলে নেন মোহাম্মদ নবির উইকেট। সেসময় আফগানদের জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় এমন- ৪ বলে ২৪। অর্থাৎ, প্রত্যেক বলে ছক্কা মারতে হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রহমানউল্লাহ গুরবাজ প্রায় মিলিয়েই দিচ্ছিলেন সমীকরণ।

মহারাজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম তিন বলে গুরবাজ তিন ছক্কা হাঁকালে জমে যায় ম্যাচ। শেষ বলে ছক্কা হলেই জিতে যাবে আফগানিস্তান। চাপের মুখে ষষ্ঠ বলটি ওয়াইড করেন মহারাজ। পরের বাড়তি বলে গুরবাজ হিট করলেও ব্যর্থ। মিলারের হাতে তিনি ধরা পড়লে জয়ের আনন্দে মাতে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৪ রানের লক্ষ্যে রশিদ খানরা থামে ১৯ রানে।

    শেয়ার করুন: