অনলাইন
গতির সঙ্গে আমাদের গল্প

ছবি: আগামীর সময়
‘আমাদের মতো চাপে কে থাকে?’ এমন প্রশ্ন আদিলের। অথচ তার বিরুদ্ধেই চাপে রাখার অভিযোগ বাকিদের। এটি আবার গুরুতর অভিযোগ নয়। কেননা অভিযোগটি যাদের, তারাই শিফট শেষে আদিলের সঙ্গে বাইরে চা খেতে খেতে বলেন, ‘আরে অনলাইন মানেই তো চাপ। আদিল ভাই কি কম চাপে থাকেন?’ সকালের শিফটের দায়িত্বে থাকেন আহমেদ হাসান আদিল সিদ্দিকী। তার অধীনে হৃদয়, রিনা, অদিতি, শান্ত, রিফাত, মিম।
হৃদয়ের নাম এসএম আজিজুর রহমান। সময়জ্ঞান তুখোড়। সংবাদ সম্পাদনা কিংবা তাৎক্ষণিক সংবাদ বানানোর ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কাজ করে সূক্ষ্মভাবে। মাকসুদা রিনার কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অদিতি দাসকে আমরা রেখেছি সারা দেশে; ইলিয়াস শান্ত জাতীয় পর্যায়ে নজর রাখেন আর আইরিন মিম রাখেন পুরো গ্ল্যামার দুনিয়ার খবর। মাহমুদুল হাসান রিফাত নজর রাখেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাকে দিনে অজস্রবার শুনতে হয়, ‘এই রিফাত ব্রেকিং যেন মিস না হয়...’
দুপুরের আগে তাদের সঙ্গে যোগ দেন মেহরিন আশফিয়া জাহান। সমন্বয় করেন সারা দেশের খবর। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা সংবাদ কীভাবে অর্থবহ করে তুলতে হয় সেটা যেমন নিজ হাতে করেন, তেমনই করিয়ে নেন।
অনেকেই ভাবছেন কথা হচ্ছে অনলাইন টিম নিয়ে, এর বাইরে আবার কীসের টিম। হ্যাঁ, আমাদের ছোট ছোট অনেক টিমের সমন্বয়েই অনলাইন বিভাগ। তবে এসব কাজ করতে গিয়েই প্রতিদিন কারণে-অকারণে খাবারের আয়োজন করা হয় সকাল ও মধ্যবর্তী শিফটে।
কে খাওয়ায়? নির্দিষ্ট কেউ নেই। আজ এ খাওয়াবে তো কাল ও। মাঝখান থেকে ইসলামি জীবন ও মূল্যবোধ বিভাগের দেখাশোনা করা মুফতি সাইফুল ভাইয়ের কাঁধেও পড়ে যায় দায়িত্ব। তবে হাসিমুখে কাজের বাইরের এ দায়িত্বও পালন করেন। না, এক্ষেত্রে কাজের কোনো সমস্যা হয় না। খাবার আনার দায়িত্বে থাকেন আমাদের অফিস সহকারী সানোয়ার ভাই। আর বাকিরা বসে থাকেন কম্পিউটারের সামনেই। চলতে থাকে সংবাদ হালনাগাদের কাজ।
দুপুর পার হতে না হতেই অফিসে হুড়মুড় করে ঢোকেন রাকিব হাসান, নাজমুস সাকিব রহমান, মিঠুন কুমার পাল, মনির হোসেন রনি, সাইখ আল তমাল, তানজিলা আফসানা মিমি। মিমি বসে যান ডেস্কে, মনোযোগ দেন কোথায় কখন কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে, শুরু করেন যাচাই। অবশ্য এর আগে অফিসে ঢুকে পড়েন দৃষ্টি দত্ত। ডেস্কে বসেই দৃষ্টি বলেন, ‘ভাই আমি এখন কী করব?’
অফিসে ঢুকেই রাকিব নজর রাখেন সহকর্মীদের ওপর। সংবাদ নিয়ে শুরু হয় তাগাদা। সাকিব শিফটের দায়িত্ব নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দেশ-বিদেশে নতুন কী ঘটল, রিপোর্টারদের সঙ্গে সমন্বয়, রাকিবের সঙ্গে মিলে সাকিব করেন এসব। মিঠুন নজর দেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, একই সঙ্গে আমাদের প্রতিবেদকদের পাঠানো সংবাদ দ্রুত প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। তবে তাদের মধ্যে তমাল কাজে বসার আগেই চিন্তা করেন বিকালের শিফটে খাওয়াদাওয়ার কী আয়োজন করা যায়, যেন সকালের শিফটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিছিয়ে না পড়েন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দল ভারী হতে থাকে। যুক্ত হন— আহসান হাবিব মারুফ, ইমদাদুল হক মিলন, মো. সাইফুল ইসলাম, মানিক রাইহান বাপ্পী। মারুফ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দায়িত্ব নিয়ে ডেস্কে বসে যান। শুধু বসেই যান তা নয়, তিনি মাঝেমধ্যেই নিজের আসন থেকে উঠে আসবেন এবং আন্তর্জাতিক-রাজনীতি নিয়ে তার মত প্রকাশ করবেন। সেই মত শুনে বাকিরাও কিছুক্ষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে এসব এড়িয়ে মিলন মনোযোগ দেন দেশের আনাচে-কানাচে। মাঝেমধ্যে মুখ খোলেন। তখন জানা যায়, বিবাহবার্ষিকীর তারিখ নিয়ে পড়েছিলেন বিভ্রান্তিতে।
আর সাইফুল, সামাজিক মাধ্যম হোক বা রাজনীতি— কোথাও একটা ঘটনা ঘটবে তিনি জানবেন না এমনটা হয় না। সাকিবের সঙ্গে বাপ্পী সমানতালে টিম এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন। প্রিন্টের সঙ্গে এ দুজন সমন্বয় করতে থাকেন। রাকিব, সাকিব, বাপ্পী তৎপর থাকেন উপ-সম্পাদক আশরাফুল হক রাজীব ভাইয়ের সঙ্গে। প্রতিবেদকদের কাছ থেকে বিশেষ প্রতিবেদন এনে কখন কীভাবে প্রকাশ হবে— এ নিয়ে চলে আলোচনা।
অফিসে ঢুকেই মাঠে দৌড়াতে হয় মো. শাহীনকে। মাঠ থেকেই খবর পাঠাচ্ছেন, সে খবর সঙ্গে সঙ্গেই হালনাগাদ হচ্ছে। ঢাকার অন্যপ্রান্তে আরেকজনকে পাঠানো দরকার, পাঠানো হলো প্রজ্ঞাদ্বীপকে, তানভীর হোসেনকে। অনলাইনের জন্য এ তিনজন অনবরত খবর পাঠাচ্ছেন। খবর শেষে, শাহীন অফিসে হাজির। দেখা গেল তখন তমাল খাবার নিয়ে এসে সবার টেবিলে দিচ্ছেন। শাহীন বললেন, ‘ভাই, আমার খাবার কই?’
এভাবেই দিনের সূর্য গড়ায় সন্ধ্যার কোলে। আমাদের বিভাগে কিবোর্ডের শব্দ থামে না। রাত আরও বাড়লে যোগ দেন আরফানুল ইসলাম সিয়াম, হাবিবুল হাসান রিজভী, বিশ্বজিৎ চন্দ্র নাথ, মো. সোহানুর রহমান ও ইকবাল হোসেন। রাতভর খবর আপডেট রাখা ও ইপেপার অনলাইনে যুক্ত হওয়ার কাজ চলতে থাকে। যখন সবাই ঘুমে, তাদের কর্মযজ্ঞ চলে অবিরাম, রাতভর। সকালে যে পত্রিকা হাতে ধরা যায়, সেটি আগের রাতেই নিখুঁতভাবে অনলাইনে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব তাদের কাঁধে।
তবে সারা দিনের এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংবাদকে নির্ভুল করে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেন যিনি, তিনি জ্যেষ্ঠ সম্পাদনা সহকারী এ কে আজাদ; তার সঙ্গে যুক্ত হন মো. রায়হানসহ প্রিন্ট বিভাগের আরও কয়েকজন। আর সংবাদের সঙ্গে মানানসই ছবি তৈরিতে অক্লান্ত ভূমিকা রাখেন অনন্যা বিশ্বাস প্রমা।
আগামীর সময়ের অনলাইন ভার্সন বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে হালনাগাদ হতে থাকে। আর এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন গোবিন্দ শীল। সঙ্গে মাজমুর ওয়াস্তা, শামীমা আফরোজ শাম্মী, আল ইকরাম মাহমুদ সৌমিক প্রতিটি সংবাদকে ইংরেজি ভাষার পাঠকের উপযোগী করে তুলছেন।
আমাদের প্রতিদিনের গল্পগুলো এমনই। সংবাদ সম্পাদনা ও প্রকাশের সঙ্গে নিজেদের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো প্রতিদিন এভাবেই উঠে আসে। একই সঙ্গে কর্মীদের ভেতরে অক্ষুণ্ণ থাকে নিজেদের সর্বোচ্চ দেওয়ার প্রত্যয়।




