৭ সারথি
বাজেটে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে চেয়েছিলেন তাজউদ্দীন

তাজউদ্দীন আহমদ (২৩ জুলাই ১৯২৫ – ৩ নভেম্বর ১৯৭৫)
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের সে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। পরপর তিনটি বাজেট দিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি হয় তার সময়েই। আত্মনির্ভরশীল এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তাজউদ্দীন, বাজেটেও ছিল তার প্রতিফলন।
স্বাভাবিকভাবেই, স্বাধীনতার পর প্রথম বাজেটের কেন্দ্রে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন । ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষে সারা দেশ যখন জেরবার, সে বছরের ২৬ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
‘তাজউদ্দীন আহমদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা’ গ্রন্থে ড. মো. কামাল হোসেন লিখেছেন ‘তাজউদ্দীন আহমদ জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যে তিনটি জাতীয় বাজেট এবং একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, তাতে কেবল ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর চেষ্টাই করেননি, গ্রাম ও শহর, সদর ও মফস্বল এলাকার মধ্যেও বৈষম্য কমানোর চেষ্টা এবং উন্নয়নে সমান গুরুত্ব প্রদান করেন।’ বলা হয়ে থাকে, তার বাজেটগুলো ছিল সুলিখিত এবং উপস্থাপনগুণে খুবই চমৎকার।
আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তিনি, বাজেটেও ছিল তার প্রতিফলন
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। সময়টা ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেছিলেন ১৯৪৪ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’জ হাই স্কুল থেকে। আর আইএ পাস করেছিলেন ১৯৪৮ সালে। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি। ১৯৬৪ সালে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভ করে ঢাকায় আইন ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে যে সর্বদলীয় নেতৃসম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন, সেই সম্মেলনে তিনিও যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে জেলে থাকা অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জেল থেকে মুক্তি পান। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর ৩ নভেম্বর তাজউদ্দীন সহ ৪ জাতীয় নেতাকে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়।




