তনি আমাকে ‘দাসী’ কেন বলবে, প্রশ্ন ডা. মাহমুদা মিতুর

তনি ও মিতু
নারী উদ্যোক্তা রুবাইয়া ফাতেমার তনি এনসিপির নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে দাসী বলেছেন। আর এ কারণে দুঃখও পেয়েছেন মিতু। এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানালেন তিনি। সম্প্রতি একটি লাইভ অনুষ্ঠানে এ কথা নাকি বলেছেন তনি, দাবি মিতুর।
মিতু বলেন, রুবাইয়া ফাতেমার তনির সেকেন্ড হাজাবেন্ড যখন প্রথমবার অসুস্থ হয় তখন আমি আমার পেইজে একটা লেখা দিয়েছিলাম ,উনার হাসবেন্ড এবং সংসার নিয়ে। এজন্য আমাকে অনেক কথাও শুনতে হয়েছে। তনীর কিছু কিছু জায়গায় বোল্ড অবস্থানকে আমার ভালো লাগতো। এজন্য অনেক মেয়েরা আমাকে বুলি করেছিলো। উনার হাজবেন্ড বয়স্ক এজন্য উনাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে কিন্তু উনি যে দায়িত্ব পালন করতো সেটা আমার ভাল্লাগতো। মানুষ উনাকে কমেন্ট করে করে তিক্ত করে ফেলতো সেটা দেখে খারাপ লাগতো।
মিতু সেই লাইভের প্রসঙ্গে বলেন, এজন্য আমি লেখা লিখছিলাম। লেখাটা পাচ্ছিনা আমি শিওর আমার গ্রুপের অনক মেয়েরাই পড়েছে। আজ সেই তনী দেখলাম বলছে আমার মতো মেয়েরা নাকি দাসী হয়ে থাকতে পছন্দ করে। উনি হয়তো আমার আইডোলজি জানেনা আমাকে চেনেও না কারন আমি যতদূর বুঝেছি উনি পলিটিক্যালি ইন্টারেস্ট ও না। আমিও উনার ব্যপারে ইন্টারেস্ট না উনি থার্ড টাইম বিয়ে করছেন দেখেও ভালো লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো অনেক লড়াই করেছে এখন অন্তত ভালো থাকুক।
তনির এমন তকমা মানতে পারছেন না মিতু। তিনি বলেন, আমার মতো পড়াশোনা করা ওপেন মাইন্ডেড মেয়েকে কেন উনার দাসী মনে হলো বা উনি কেনই অকারণ এইরকম একটা নোংরা কমেন্টে জড়ালেন জানিনা। তবে মন খারাপ লাগলো যে এই মেয়ের জন্য আমি এক সময় ফাইট করেছি। জোর গলায় বলেছি ,বিয়ে করছে সে বিয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তৈরি হয়। সেই বিয়ে নিয়ে সমালোচনার তুমি কে?
পরীমনির পক্ষেও দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে ডা. মিতু বলেন, আমি পরীমনিকে নিয়েও মাঝেমধ্যে লিখছি। আমার ভাল্লাগছে তার মা সুলভ আচরণ আমার পছন্দ। নাদিয়াকে আমি চিনি না ,লাইভে আর যারা ছিলো তাদের ব্যপারে আমার নূন্যতম ইন্টারেস্ট নাই। আপনাদের সাথে আমার সমস্যা কোথায় আমি জানিনা ,তবে আমি বিশ্বাস করি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ফরজ কিন্তু তার জন্য জোর করার অধিকার কারো নাই।
ডা. মাহমুদা বলেন, আমি এই কথাগুলোকে অস্বীকার করিনা বা এগুলোকে নিয়ে কেউ তুচ্ছতাচ্ছিল্য করিনা আমার তুমুল ভয় লাগে। আল্লাহর ভয়। আবার আমার পর্দা করতেও ইচ্ছা করেনা। আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত আসেনি হয়তো। আমি খুবই দুঃখ পেলাম বিশেষ করে তনী আপার কথায় ,যে উনি আমাকে দাসী বলেছেন। অথচ উনি জানেই না চিনেই না আমি কে কেমন। উনাদের লাইভ আমি দেখিনি একটা মিম বানাইছে সেখানে দেখলাম। আপনি অনেক স্ট্রাগল করেছেন আপা ,দুটো বাচ্চাও আছে, নোংরা কমেন্টে কেমন মানসিক টর্চার লাগে সেটা আমি বুঝি। আমি আপনার সুন্দর জীবন কামনা করি।
নারীদের পক্ষে দাঁড়াতে চান জানিয়ে মিতু বলেন, এই যে নারীদের দেখছেন ,আমি আমার সর্বোচ্চ শালীনতা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ধারন করে এই নারীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চাই ,আমি হাজার হাজার মাদ্রাসার মেয়েদের কণ্ঠস্বর হতে চাই যাদের কথা কেউ শোনেনা। যাতে তাদের কেউ ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে ঘরে বন্দী না করতে পারে। আপনাদের তো কথা বলার স্কোপ আছে উনাদের কেউ নাই। আমি এও চাই জিন্স টপ পরার কারণে কোনো মেয়ে হেনস্থা না হোক। এটা ও আমার ধর্ম শিখায় না। আমিও বুলিং এর স্বীকার হই। আমিও চাই এর সল্যুশন হোক। আপনারা আমাকে এভাবে কটাক্ষ না করে আমার সাথে এক সাথে কাজ করতে পারেন।

