জুতাকাণ্ডের বর্ণনা দিলেন সেই শিক্ষিকা

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীতে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ‘জুতাকাণ্ড’ নিয়ে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা বিস্তারিতভাবে তার অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে আলেয়া খাতুন বলেছেন, কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনা ও সংস্কারের জন্য আমরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেজন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম এবং সেখান থেকে একজন বিসিএস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এই পরিবর্তন ও সংস্কার কিছু মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তারা তা মেনে নিতে পারেনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় ছিল। যারা নিয়মিতভাবে এসে টাকা দাবি করত। প্রতি সপ্তাহে তারা এসে বড় অঙ্কের টাকা নিত এবং আগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এসব দাবি মেনে নিতেন।
তার দাবি, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিলেও বাস্তবে তারা সেই দলের আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা এখানে এসে অশালীন ভাষায় কথা বলেছে এবং টাকা দাবি করেছে।
আলেয়া খাতুন হীরা আরও অভিযোগ করেন, কলেজের ভেতরের কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছেন।
তার মতে, তারা বহিরাগত কিছু লোককে ডেকে এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। সেই বহিরাগতদের মধ্যে কয়েকজন আবার কলেজের সঙ্গে খণ্ডকালীনভাবে যুক্ত ছিল।
তিনি নির্দিষ্টভাবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তাদের উসকানির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।’
তার অভিযোগ, তাকে (আলেয়া খাতুন) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাকে মারধর করেছে এবং অপমানজনক আচরণ করেছে। এই ঘটনার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে বিচার দাবি করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার ভাষ্যমতে, পুরো ঘটনাটি ছিল একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। যার লক্ষ্য ছিল কলেজের চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।

