আগামীর সময়

যমুনায় ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখলেন সায়ন্ত সাখাওয়াত

যমুনায় ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখলেন সায়ন্ত সাখাওয়াত

ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া

ঈদের দিন রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. সায়ন্ত সাখাওয়াত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার পোষ্টটি আগামীর সময়ের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল—

‘‘প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ-এর নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই একজন নিরাপত্তারক্ষী সিনেমাটিক স্টাইলে দুই হাত আড়াআড়ি ধরে ক্রস চিহ্ন দেখিয়ে বললেন, স্টপ। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় বন্ধ। শেষ। ক্রস হাতের ফাঁক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখে হাতের ইশারা করলেন। তাঁর হাতের ইশারায় ক্রস হাত সরে গেল। আমি এগিয়ে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলাম। তিনি ডা. জোবায়দা রহমানকে দেখিয়ে বললেন, এখানে আপনার আরেকজন ভক্ত আছেন। আমি তার দিকে তাকিয়ে সালাম দিলাম। জানালাম, বিকেলেই উমরাহ পালন করতে সৌদিআরব যাচ্ছি। দোয়া করবেন। তিনিও তার স্বভাবসুলভ সিমপ্লিসিটি দেখিয়ে দোয়া চাইলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আচরণে আমার মনটা ভরে গেল। আমি ভুলে গেলাম, কিছুক্ষণ আগেও আমি বিরক্ত হয়ে তার সঙ্গে দেখা না করেই চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যমুনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের শেষ ব্যক্তি ছিলাম আমি। নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে থাকা কেউ কেউ বললেন, আপনি ভাগ্যবান। প্রধানমন্ত্রীর চোখে পরায় তার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন।


তার কিছুক্ষণ আগের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা লোকজনের ধাক্কাধাক্কিতে এক হরিবল অবস্থা তৈরি হয়েছিল। বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নারী এই ধাক্কাধাক্কির কবলে পড়ে কোনো মতে বের হয়ে গেছেন যমুনা থেকে। হুইল চেয়ারে আসা ডিজএবলড পারসনদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের নেতা ও এ বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি আবদুস সাত্তার দুলাল ভাইকে ঠেলাঠেলি ও ভিড়ের মধ্যে রক্ষা করতে গিয়ে আমি গলদঘর্ম। তারপর সে ভিড় থেকে বের হয়ে এসে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেই। তখন কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, এতক্ষণ যখন কষ্ট করে আছেন, এখন ভিড় কমে আসছে, দেখা করেই যান। আমি দ্বিতীয়বার এটেম্ট নিয়ে সফল হলাম।


যমুনা থেকে বের হওয়ার সময় দেখা পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মোবাশ্বের মোমেন স্যার ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কামরুল হাসান ভাইয়ের সঙ্গে। তারা সহ অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন বের হবেন বলে। কিন্তু গেট খোলা হচ্ছে না। বাইরে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যমুনায় প্রবেশ করার জন্য। অথচ প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব তখন শেষ। তিনি রওয়ানা দিচ্ছেন তার মা-বাবার কবর জিয়ারতের জন্য।


এক সময় অনুমতি মিলল বের হওয়ার। একটা পকেট গেট দিয়ে কোনমতে বের হতে পারলাম। যখন মোবাশ্বের স্যারকে সঙ্গে নিয়ে বের হচ্ছিলাম যমুনা থেকে, তখনও শতশত মানুষ ভেতরে ঢোকার অপেক্ষায়। পরিচিতদের বললাম, প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ। তিনি মা-বাবার কবর জিয়ারত করতে যাবেন। তারা বললেন, তাহলে বলেন অন্তত ভেতর থেকে মাইকিং করে বলে দিক শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ। তাহলে মানুষ অন্তত এভাবে অপেক্ষায় থাকবে না।


আমি প্রায়ই বলি, আমি বিএনপিকে ভালোবাসি। ভালোবাসি বলেই আরও বেটার বিএনপি চাই। আমি বিএনপি সরকারের হাতে দেশ পরিচালিত হোক সেটা চাই। তবে এখানেও আরও বেটার সরকার চাই। যারা যমুনার ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে না, তাদের ওপর নির্ভর করে জনাব তারেক রহমান তার স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবেন তো!’’

    শেয়ার করুন: