‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’

সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটি নিয়ে শিবচর উপজেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের হাজি শরিয়ত উল্লাহর আস্তানা খ্যাত বাহাদুরপুর মাঠে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন এমপি হানজালা। সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি অংশ চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে এমপি হানজালাকে বলতে শোনা যায়, তার এক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি না করার কথা বলেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আরে আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না। আপনারা রাজনীতি করেন শিবচর উপজেলা নিয়ে, আর হানজালা রাজনীতি করে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন ক্লাবে-ক্ষেতে, হানজালা চিল্লাচিল্লি করবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে।’
তবে বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির কথাও বলেন। হানজালা জানিয়েছেন, তিনি শিবচরে প্রতিহিংসা বা আধিপত্যের রাজনীতি দেখতে চান না। বরং সবাইকে নিয়ে ভালোবাসা ও ঐক্যের মাধ্যমে কাজ করতে চান।
তার ভাষায়, ‘আমার চুপ করে থাকা কোনো দুর্বলতা নয়। আমি শিবচরের মাটিতে শান্তি চাই। আসুন ভালোবাসা দিয়ে কাজ করি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাই।’
ভিডিওতে তিনি আরও বলেছেন, প্রবাসীসহ দেশের সাধারণ মানুষ তাদের বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছেন। তাই দায়িত্বশীল রাজনীতি করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তার পক্ষ থেকে কাউকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়নি বা কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়নি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে ৩৮৫ ভোটে পরাজিত করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তবে ওই নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন নাদিরা চৌধুরীর সমর্থকেরা।
এমপি হানজালার বক্তব্য নিয়ে শিবচরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মনে করছেন, একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে।
শেখ নুরুদ্দিন নামে এক ছাত্রনেতা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শিবচরের ‘টিকটক কিং গোপাল ভাঁড়’ শপথের দিনে রিকশায় করে সংসদ ভবনে গিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এরপর আর আলোচনায় আসতে পারেননি। তাই বিএনপিকে নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে আবার ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাইদুর রহমান বেপারী বলেছেন, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর ভূমিকা থাকা স্বাভাবিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সোহেল রানা বলেছেন, বর্তমান এমপি ও তার পরিবার অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি দাবি করেন, শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটানোর উদ্দেশ্য থেকেই বিএনপিকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।
তার ভাষ্য মতে, এতে উপজেলার শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

