আগামীর সময়

উপাচার্যকে প্রাপ্য সম্মান দিতে পারেনি ঢাবি: ডাকসু নেতা জুবায়ের

উপাচার্যকে প্রাপ্য সম্মান দিতে পারেনি ঢাবি: ডাকসু নেতা জুবায়ের

সংগৃহীত ছবি

অবশেষে পদ ছেড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র দেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে। তার পদত্যাগ নিয়ে সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, যেখানে তিনি উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ‘সঠিক’ বলে উল্লেখ করেন।

এবি জুবায়ের লেখেন, ‘আমাদের ভিসি জনাব নিয়াজ আহমেদ খান স্যার পদত্যাগ করেছেন। স্যারের জায়গা থেকে চিন্তা করলে আমি মনে করি উনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। অনেক কথা আছে বলার মতো। কিন্তু চাইলেও সব বলা যায় না!’

‘উনার স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগটা ক্রমান্বয়ে সংকোচিত করে ফেলা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে৷ যথাযথ মূল্যায়ন উনি পাননি। ইভেন নিয়োগসংক্রান্ত অনেক বিষয় নিয়েও তার ওপর প্রেশার ক্রিয়েটের ব্যাপার আছে। যেমন যেখানে বছরে ২১ জনকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেয়ার সুযোগ আছে সেখানে দেয়া হয়েছে ২০৭ জনকে! এরকম অনেক বিষয় ফেস করতে হয়েছে উনাকে।’

নিয়াজ আহমেদ খানের পদ আঁকড়ে থাকা সম্ভব ছিল না উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কারো পক্ষে এরকম পরিবেশে জাস্ট পদ আঁকড়ে পড়ে থাকা সম্ভব না। সেই জায়গা থেকে স্যার ভালো করেছেন পদত্যাগ করে।’

সমালোচনার সুযোগ আছে জানিয়ে জুবায়ের লেখেন, ‘উনার অনেক সমালোচনার জায়গাও আছে, সীমাবদ্ধতাও আছে। অনেক জায়গায় স্ট্রিক্ট অ্যাকশন উনি নিতে পারেন নাই যেটা নেয়া দরকার ছিল। লীগের বিচারটাও পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেন নাই। কিন্তু এসবকিছুর বাইরেও স্যারের প্রচেষ্টাটা আমি দেখেছি। জুলাই পরবর্তী লণ্ডভণ্ড ক্যাম্পাসটা অনেকাংশেই সামলে এনেছিলেন উনি।’

শিক্ষার্থীদের আপন করে নেওয়ার গুণ স্মরণ করেন জুবায়ের। জানান, ‘সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হচ্ছে উনার ব্যবহার। শিক্ষার্থীদের আপন করে নেয়ার ব্যাপারটা। কোনো বিষয় নিয়ে গেলে মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। অন্য সবার মতো সবকিছু আশ্বাস দিয়েই ম্যাটার ক্লোজ করে দেননি কখনো। বলতেন, ‘দেখ বাপ, আমি কোনো রাজনৈতিক মানুষ না যে মিথ্যা আশ্বাস দিব তোদের। আমি যেটা পারব সেটা করব। যেটা পারব না বলে দিব সোজা। আমার কোনো পিছুটান নাই।’

নিয়াজ আহমেদ খানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডাকসুর এই নেতা বলেন, ‘স্যারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। অনেক অনেক দোয়া। ভালো থাকবেন নিয়াজ আহমেদ স্যার৷ আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে প্রাপ্য সম্মান দিতে পারে নাই। বাট আপনি সম্মান ডিজার্ভ করেন।’

উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রবিবার সকালে নিয়াজ আহমেদ খান মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাবি উপাচার্য বলছিলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পর্যায়ে তিনি সরে দাঁড়াতে চান।

‘এখন এই মুহূর্তে যেন কোনো শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মুথ ট্রানজিশন দরকার, সে জন্য যদি সরকার ও অংশীজনেরা মনে করেন আরও কিছু সময় এই ধারাবাহিকতার প্রশ্নে, হঠাৎ শূন্যতা যেন না হয়, সেই প্রশ্নে যদি তারা কিছু সময় নিতে চান, আমি সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছি’ সে সময় বলেন তিনি।

নিয়াজ আহমেদ খান ডেপুটেশন থেকে অব্যাহতি চেয়ে নিজের বিভাগে ফেরত যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।

    শেয়ার করুন: