যেভাবে কন্যাসন্তান প্রতিপালনে মিলতে পারে জান্নাত

প্রতীকী ছবি
একটি শিশুর জীবনে পরিবারই প্রথম আশ্রয়, আর পরিবারের আচরণেই গড়ে ওঠে তার আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ। অথচ সমাজের নানা প্রান্তে এখনো কন্যাসন্তানকে অবহেলা করা হয়, ছেলেসন্তানের তুলনায় মেয়েদের অধিকারকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলাম এ ধরনের বৈষম্যের পরিবর্তে কন্যা ও বোনের প্রতি স্নেহ, সদাচরণ এবং দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দিয়েছে। তাদের লালন-পালন, অধিকার সংরক্ষণ ও সুন্দর জীবন গড়ে তোলাকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও তুলে ধরেছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস রয়েছে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ أَوِ ابْنَتَانِ أَوْ أُخْتَانِ فَأَحْسَنَ صُحْبَتَهُنَّ وَاتَّقَى اللَّهَ فِيهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّةُ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, অথবা দুটি মেয়ে অথবা দুটি বোন আছে, সে তাদের প্রতি ভাল ব্যবহার করলে এবং তাদের (অধিকার) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করলে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত আছে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৬)
হাদিসটি আমাদের শেখায়, কন্যাসন্তান বা বোনের প্রতি সদাচরণ নিছক সামাজিক সৌজন্য নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এ দায়িত্বেরই অংশ। শুধু মুখে ভালোবাসার কথা বলাই যথেষ্ট নয়, আচরণ ও সিদ্ধান্তেও তার প্রতিফলন থাকা জরুরি। তাই আসুন, কন্যাশিশু ও বোনদের বোঝা নয়, আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে বিবেচনা করি। পরিবারে তাদের প্রতি বৈষম্য ও অবহেলা দূর করে ভালোবাসা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের আন্তরিক সদাচরণে তাদের শৈশব হোক নিরাপদ, জীবন হোক সুন্দর এবং পরিবার হয়ে উঠুক জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক



