হাদিসের বাণী
কিয়ামতের দিন কারা নবীজির কাছে থাকবে, কারা দূরে

প্রতীকী ছবি
মানুষের ব্যক্তিত্ব শুধু তার জ্ঞান, সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদায় প্রকাশ পায় না; বরং তার কথাবার্তা, আচরণ ও অন্যের প্রতি ব্যবহারের মধ্যেই তার প্রকৃত চরিত্র ফুটে ওঠে। তাই ইসলাম সুন্দর চরিত্রকে ঈমানি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে। বিপরীতে অতিরিক্ত কথা বলা, কথায় অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রকাশ করা এবং অন্যকে হেয় করার মানসিকতা একজন মানুষকে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে। হাদিসটি হচ্ছে-
عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مِنْ أَحَبِّكُمْ إِلَىَّ وَأَقْرَبِكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلاَقًا وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَىَّ وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ وَالْمُتَفَيْهِقُونَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْنَا الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ فَمَا الْمُتَفَيْهِقُونَ قَالَ " الْمُتَكَبِّرُونَ " .
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম তোমাদের মধ্যে সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আমার নিকট হতে অনেক দূরে থাকবে তারা হলোঃ বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে মত্ত ব্যক্তিরা। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। বাচাল ও ধৃষ্ট-দাম্ভিকদের তো আমরা জানি কিন্তু মুতাফাইহিকূন কারা? তিনি বললেনঃ অহংকারীরা।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০১৮)
হাদিসটি আমাদের শেখায়, মানুষের মর্যাদা তার কথার বাহুল্যে নয়, বরং তার চরিত্রের সৌন্দর্যে। অতিরিক্ত কথা বলা, কথায় নিজেকে জাহির করা, অন্যকে তুচ্ছ করা কিংবা নিজের জ্ঞান ও মর্যাদা নিয়ে অহংকার করা মুমিনের গুণ নয়। একজন প্রকৃত মুমিনের কথায় থাকবে সংযম, আচরণে থাকবে বিনয় এবং ব্যবহারে থাকবে মানুষের প্রতি সম্মান।
তাই কথা বলার আগে আমাদের ভাবা উচিত, আমার এই কথা কি প্রয়োজনীয়, সত্য ও কল্যাণকর? আমার আচরণে কি অন্য কেউ অপমানিত হচ্ছে? নিজের জ্ঞান, সামর্থ্য কিংবা মর্যাদা প্রকাশের পরিবর্তে যদি আমরা বিনয় ও উত্তম চরিত্রকে জীবনের অলংকার করি, তাহলে মানুষের হৃদয়ে যেমন সম্মান অর্জন করা সম্ভব, তেমনি কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নৈকট্য লাভের আশাও করা যায়।
আসুন, বাচালতা ও অহংকার পরিহার করে সংযত ভাষা, বিনয়ী আচরণ ও উত্তম চরিত্রের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি।



