প্রতিমন্ত্রিত্ব হারানো ইশরাক মেয়র নির্বাচনের জন্য ‘শতভাগ প্রস্তুত’

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমর্থক পরিবেষ্টিত ইশরাক হোসেন। ছবি: আগামীর সময়
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের লক্ষ্য ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়া, কিন্তু তা হয়নি। বরং সংসদ সদস্য হয়ে তিনি পেয়ে যান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিতর্কে জড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি বলেছেন, মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে তার।
পুরান ঢাকায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেমে সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের পর আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
এই সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিল, তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে চান কি না? জবাবে ইশরাক বলেছেন, তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার পর ইশরাককে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। পরদিন রবিবার প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। তবে তা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ইশরাক।
রাতভর নাটকীয়তার পর আজ সকালে এক ফেসবুক পোস্টে ইশরাক বলেছেন, তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন।
কয়েকশ সমর্থক নিয়ে প্রেস ক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন ইশরাক। তিনি বলেছেন, দলকে বিব্রত না করতে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রীর সায় পাওয়ার কথাও বলেন ইশরাক।
তখন সাংবাদিকরা তার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।
৩৯ বছর বয়সী ইশরাক বললেন, ‘আমি সম্পূর্ণ
প্রস্তুত রয়েছি। যদি দল মনে করে, আমার নির্বাচন করা প্রয়োজন, আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।’
২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইশরাককে মেয়র প্রার্থী করেছিল বিএনপি। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
তখন ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আইনি লড়াই শুরু করেন ইশরাক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তাকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেও ইশরাককে শপথ পড়ানোর কোনো উদ্যোগ তখন নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।
ইশরাক তখন নিজেই শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলন থামিয়েছিলেন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক, তারপর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
মেয়র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আগের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি বললেন, ‘আমি এর আগে নির্বাচন করেছি, অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমি কাজ করে আসছি দলের নির্দেশ অনুযায়ী।’
তবে সিটি নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে।
ইশরাক বললেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এখতিয়ারভুক্ত এবং তার একক সিদ্ধান্তে হবে।’
বিএনপি থেকে অন্য কাউকে মেয়র প্রার্থী করা হলে তা মেনে নেবেন বলেও জানালেন ইশরাক।
তিনি বললেন, ‘যদি দল আর কাউকে মনোনীত করে, তাহলে তাকে সমর্থন দিতেও আমি শতভাগ প্রস্তুত।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম। তিনি ইশরাকের বাবা সাদেক হোসেন খোকার (প্রয়াত) ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী। সাদেক হোসেন খোকা যখন ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সালাম ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। তারা দুজনই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সাদেক হোসেন খোকা ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারে মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে ২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হন তিনি।
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে সাদেক হোসেন খোকাই সর্বশেষ মেয়র। ওয়ান-ইলেভেনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করে।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। তাতে আগামী বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে তাদের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করছে ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েমকে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মেয়র প্রার্থী করছে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।
তবে বিএনপি এখনো ঢাকা দক্ষিণসহ কোনো সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেননি।




