আগামীর সময়

হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।


রোববার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা ছিলো। তাই এদিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।

যার কারণে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে অন্তুষ্ট ইনকিলাব মঞ্চ

এছাড়া গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ঠিক করেন।‎

ওইদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছে আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়।

তদন্তভার পাওয়ার পর মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করার পর দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

‎জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।


    শেয়ার করুন: