মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেলেন আফরোজা খানম রিতা

সংগৃহীত ছবি
আফরোজা খান রিতা। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। সাবেক মন্ত্রী ও বরেণ্য শিল্পপতি মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর যোগ্য উত্তরসূরি তিনি।
শত মানিকের জেলা হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জের এই সদালাপী একজন নারী, শিক্ষা-দীক্ষা ও সামাজিকতাসহ সর্বগুণে গুণান্বিতা। এ ছাড়া তিনি সর্বক্ষণই মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ঠিক বাবার মতোই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির এই নেত্রী। বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, এবার তিনি জায়গা করে নিয়েছেন মন্ত্রিসভাতেও।
তার এই খবরে মানিকগঞ্জের মানুষের চোখে-মুখে আজ আনন্দ বইছে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অনুসারীরা অভিনন্দন ও মন্ত্রী হওয়ার খবরের উচ্ছাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তবে অনেক মনে করছেন তাঁর এই সফলতার মূল শক্তিই হচ্ছে তার বাবা মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু। বাবা নেই, তবে বাবাকে অনুকরণ করেই পথ চলছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের অঙ্ক বলছে, দেশের ইতিহাসে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী নেতাদের মধ্যে ব্যবধানের বিচারে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। তার আগে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।
এ নির্বাচনে সাত নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট ও ব্যবধানে জয় পেয়েছেন রিতা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩। ১৫১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতেই তিনি প্রথম হয়েছেন। তাই বলা চলে, স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, সরাসরি ভোটে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে বগুড়া-৬ আসনে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ২০০৮ সালেও বড় ব্যবধানে জেতেন তিনি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ইতিহাসের পাতায় এই দুজনের পরই যার নাম তিনি হলেন রিতা। এবার তাকে দেখা যাবে মন্ত্রীসভাতেও।
বিএনপির দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেয়েছেন রিতা। ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ড থেকে তাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এই নেত্রী, আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব ধরে রাখা—এসবই নির্বাচন ও মন্ত্রী হওয়ার পক্ষে কাজ করেছে। পাশাপাশি তার পারিবারিক ঐতিহ্যও বড় ভূমিকা রেখেছে।
আফরোজা খানমের বাবা প্রয়াত হারুণার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তিনি মুন্নু সিরামিককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি দেন। বাবার মৃত্যুর পর মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন রিতা। বর্তমানে তিনি মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান।
২০০১ সালে বাবার নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে কাউন্সিল ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।
আফরোজা খানম বলেছেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার কারণেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। তিনি মানিকগঞ্জকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তারা ব্যবধান গড়ে জয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সেই তালিকায় স্রেফ জায়গাই করে নেননি, এবার মন্ত্রিপরিষদেও যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রিতা।

