ফল ঘোষণার ব্যাখ্যা না পেলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি জামায়াতের

সংগৃহীত ছবি
একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের ফল গণনা কার্যক্রমে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ভোটের রায় প্রকাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দলটির একটি প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এহসানুল।
তিনি অভিযোগ করেন, বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও রাত ৪টা পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়নি।
তার ভাষ্য, ‘অনেক আসনের ফল দ্রুত প্রকাশ করা হলেও ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা যাচ্ছে।... একই অবস্থা আমাদের ১১ দলের জন্য শীর্ষ নেতাদের আসনেও। আমাদের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোতে এজেন্টের কাছ থেকে আমরা যে ফলাফল শিটটা পেয়েছি সেই শিটগুলো ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা। কিন্তু সেটা ইসিতে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। চেঞ্জ করেছে ঢাকা আসনে।’
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, ‘আটটি আসনে এ ধরনের তারা পরিবর্তন করেছে। ওভাররাইটিং করেছে। লেখা চেঞ্জ করেছেন। বলেছেন যে ভুল হয়ে গেছে, এটা সংশোধন করতে হবে। বিভিন্ন সেন্টারে রেজাল্টশিট সেটা যোগ করে যেটা দাঁড়িয়েছিল কাটাকাটির আগে ওভাররাইটিংয়ের আগে। কিন্তু ওভাররাইটিং হয়েছে সেখানে ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে।’
কোনো দলের প্রধানকে সুবিধা দেয়ার জন্য এই কাজটি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনের ফল প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ওই আসনে তাদের প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে দলীয় হিসাব বলছে।’
এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলম্বের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। “ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করা হবে না”- এমন মন্তব্য করে তারা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ‘দুর্বার প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কমিশন সূত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে, কিছু কেন্দ্রে পুনঃযাচাই, ফলাফল সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্ব হতে পারে।

