জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান করেছেন চরমোনাই পীর। ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে যে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে, তা এখন ফিকে মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি আরও বলেছেন, জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করতে হবে রাষ্ট্র। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিতে হবে যথাযথ পদক্ষেপ। অন্যথায় পাওয়া যাবে না জনগণের সহযোগিতা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমরা শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘদিনের পথচলায় আমাদের কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেন, কেন এখনো আমরা সফল হইনি? তাদের বলব, মেঘ দেখে তোরা করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সূর্য হাসে। মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের ভয় ও চিন্তা নেই, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও। সুতরাং ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর রহমতকে পুঁজি করে কাজ করে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছি, এই দেশকে ভালোবাসি। ঈমানের একটি অংশই হলো দেশকে ভালোবাসা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর চলছে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে লক্ষ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন, মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতার এত বছর পরও তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আজ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জে আমাদের যুব আন্দোলনের একটি তরতাজা প্রাণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘চব্বিশে যেভাবে পাখির মতো গুলি করে এ দেশের মেধাবীদের হত্যা করা হয়েছিল, সেই শব্দগুলো এখনো আমাদের কানে ধ্বনিত হচ্ছে। যারাই এসবের পুনরাবৃত্তি করবে, তাদের অবস্থাও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।’
বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি জানান, এসব দলের নীতি-আদর্শের মাধ্যমে দেশে শান্তি আসেনি। মায়েদের সন্তানহারা চিৎকার বন্ধ হয়নি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ হয়নি, নির্বিচারে যুগের পর যুগ মানুষকে জেলে পড়ে থাকা বন্ধ হয়নি। এসব নীতি-আদর্শ মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। একমাত্র ইসলামই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির পথ দেখাতে পারে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, প্রফেসর ড. সরোয়ার হোসেন, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. ঈসা সাহেদী।
সম্মেলন শেষে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি করে ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন পীর সাহেব চরমোনাই।







