কৃষক কার্ড প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়া কাজ বণ্টনের অভিযোগ, তদন্ত দাবি হাসনাতের

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ
কৃষক কার্ড প্রকল্পে দরপত্র ছাড়াই কাজ বণ্টন এবং সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তার অভিযোগ, ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে পছন্দের লোকজনকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
আজ শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। সরকার-টু-গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বিএমটিএফের মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত পাঁচ মাস ধরে খাল খননসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এভাবে বণ্টন করা হচ্ছে। কোথাও সরকারি ই-জিপি পদ্ধতিতে, আবার কোথাও অন্য পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হচ্ছে বলে তার দাবি।
এত বড় একটি সরকারি প্রকল্পে দরপত্র ছাড়া কীভাবে কাজ বণ্টন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বিএমটিএফের মাধ্যমে কারা সাব-কন্ট্রাক্ট পাচ্ছেন, কীসের ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সরকারি প্রকল্প পছন্দের লোকজনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, গত পাঁচ মাসে কাজ বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা জরুরি। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুপুরের খাবারে মাত্র ১৫০ টাকা খরচ করেন বলে শোনা যায়। অথচ সাড়ে চার কোটি মানুষকে ১৫০ টাকা করে একবেলা খাবার দিতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কেউ কেউ একবেলাতেই সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার আদর্শের বিপরীতে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের জবাব কী? একই সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রকল্পসহ সরকারি কাজ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে কৃষক কার্ড প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া, সাব-কন্ট্রাক্ট বণ্টন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।




