স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে গণঅধিকার পরিষদ

ছবি: আগামীর সময়
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটের সঙ্গে সমঝোতা না করে একক ও স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হলে তাদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই নির্বাচনী এলাকায় দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হলে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করে তার প্রতি দলীয় সমর্থন জানানো হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে দলটির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।
এ সময় দলের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম ও সাকিব হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নীলা শেখ ও অরবিন্দু বেপারীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে হাসান আল মামুন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান।
দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, গণঅধিকার পরিষদের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে দল তার পাশে থাকবে। তবে কোনো নির্বাচনী এলাকায় দলের একাধিক প্রার্থী থাকলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করে তার প্রতি দলীয় সমর্থন জানানো হবে। দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য দলের কোনো ব্যক্তিও গণঅধিকার পরিষদের সমর্থিত প্রার্থী হতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে।
যেসব এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের উপযুক্ত প্রার্থী থাকবে না, সেসব স্থানে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ও জনবান্ধব প্রার্থীদের প্রতি দলটির নেতাকর্মীরা সমর্থন জানাবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনটি দাবিও তুলে ধরে। দলটির প্রথম দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য স্নাতক বা অনার্স এবং সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস বাধ্যতামূলক করা উচিত।
দ্বিতীয় দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের বক্তব্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যদি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা থাকা উচিত নয়।
তৃতীয় দাবিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে সেভাবে প্রস্তুত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।



