আগামীর সময়

আমাকে খুঁজতে হবে না, ফোন দিলেই হবে: মির্জা আব্বাস

আমাকে খুঁজতে হবে না, ফোন দিলেই হবে: মির্জা আব্বাস

সংগৃহীত ছবি

‘সবসময় আপনাদের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে। বাসায় না পেলে ফোন দিয়ে জানাবেন, আমাকে পাবেন।’ আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে এ কথা বলেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই এলাকায় জন্মেছি, বড় হয়েছি, স্কুলে পড়েছি। এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আমি প্রতিটি দুর্যোগে এলাকায় ছিলাম—বন্যা, পানি, বিপর্যয় সবসময়। আমি মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিতে যাইনি। মেয়র ছিলাম, কিন্তু গুলশানের মেয়র হাউসে যাইনি। কারণ আমার লোকজন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের সমস্যা থাকলে তারা আমাকে কোথায় পাবে? গুলশানে গেলে তারা কীভাবে আসবে? এই চিন্তা থেকেই আমি সবসময় এলাকায় থেকেছি। আপনাদের দোয়ায় ও ভোটে আমি তিনবার মন্ত্রী হয়েছি, একবার মেয়র ছিলাম।

মির্জা আব্বাস বলেন, শুনেছি সরকারের একটি মহল কয়েকজনের লিস্ট করেছে তাদের পাস করাতে হবে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারো কারো প্রতি দুর্বলতা দেখা গেছে। কয়েকজন প্রার্থী বলছেন তারা জিতেই গেছেন। আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এটি খারাপ। ভোট পাক বা না পাক তাদের সংসদে পাঠাবে।

এর আগে পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা বছরের পর বছর জেলে থেকেছি, আন্দোলন করেছি। সুতরাং এককভাবে ২৪-এর দাবিদার কেউ নয়। কিন্তু এখন অনেকে এমনভাবে কথা বলছে যেন তারা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনও বলিনি আমাদের ক্ষমতা দিতে হবে, মন্ত্রী বানাতে হবে। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছিল, আজ তারাই নানা দাবি করছে। প্রমাণ স্বরূপ বলা যায়, বিগত দিনে কয়েক দিন আগেও সরকারের মধ্যেও তাদের প্রতিনিধিরা ছিল, এখনো আছে।

তিনি বলেন, আমার ধারণা আমরা যে সময় পার করে এসেছি, তার চেয়েও ভয়াবহ সময় সামনে আসছে। এই সরকার, কিংবা আগামী সরকার, কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার যেই হোক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।

তিনি বলেন, একটি জোটের প্রার্থীদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে আগামী নির্বাচনকে নিজেদের মতো করে করতে চায়। তারা সব সময় বলে—বিএনপি, বিএনপি, বিএনপি। ভাই, বিএনপি তো ১৭–১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই তো নির্বাচনসূচি ঠিক করেছে, কমিশনে বসেছে, স্কুল-কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিএনপি কোথায়? ভাবসাবটা এমন—আওয়ামী লীগ তাড়ানো হয়েছে, এবার বিএনপিকেও তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

    শেয়ার করুন: