আগামীর সময়

উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে তরুণ উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবীরা: মামুনুল হক

উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে তরুণ উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবীরা: মামুনুল হক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভয়কে নয় ইনসাফকে বেছে নিন। আসন্ন নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রণীত জুলাই সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের একটি বাস্তবভিত্তিক কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে। যদিও সনদের প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে শতভাগ একমত নন উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, বর্তমান জাতীয় সংকট মোকাবিলায় এর চেয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প এখনো দৃশ্যমান নয়।

আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মামুনুল হক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, শাপলা চত্বরের নিহতরা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ কোনো আনুষ্ঠানিক স্মরণে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয় বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক দায়বদ্ধতার ভিত্তি।

খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের প্রচারের আড়ালে একটি দমনমূলক ও দুর্নীতিনির্ভর ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। সমস্যার মূল কোনো একক সরকার নয়, বরং একটি লুটেরা ও অনিয়মপ্রসূত সিস্টেম। এবারের লড়াই কেবল ক্ষমতার বদল নয়। কারণ শুধু সরকার বদলালে জনগণের মুক্তি আসে না, মুক্তি তখনই আসে, যখন লুটপাট ও দমননির্ভর সিস্টেম ভেঙে ফেলা যায়। তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ইসলামী সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন থেকেই সেই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।

অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তিনি প্রস্তাব করেন ‘এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টিধারী কর্মসূচি’, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার কথা বলেন। তার মতে, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে তরুণ উদ্যোক্তা ও শ্রমজীবী মানুষ। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে, পণ্য ও সেবায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ আর শ্রমের মর্যাদা ছাড়া অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।


    শেয়ার করুন: