মির্জা ফখরুল কি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে দলটি। এর মধ্যেই আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে জানতে চাইছেন, মির্জা ফখরুল কি নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন?
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন্ন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘ছোট কিন্তু কার্যকর’ ক্যাবিনেট। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রী নির্বাচন করতে চান দলের চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে বিভিন্ন নাম আলোচনায় রয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে, এমন আলোচনাও রয়েছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এবার ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬২টি। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। এ নিয়ে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হলেন সাবেক এই মন্ত্রী।
এক নজরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেন মির্জা ফখরুল। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।
পারিবারিক জীবনে তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত।
১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদফতরে নিরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮২ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে পরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

