পদত্যাগপত্র গৃহীত, ইশরাক আর প্রতিমন্ত্রী নন

ইশরাক হোসেন। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: আগামীর সময়
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। ফলে তিনি এখন আর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই। তবে ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে থাকছেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেমে বিতর্কে পড়ে নানা নাটকীয়তার পর গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
আজ মঙ্গলবার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রজ্ঞাপন হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার উত্তরাধিকার হিসেবে রাজনীতিতে আসা ইশরাক আওয়ামী লীগ আমলে রাজপথে সক্রিয় থেকে অল্পদিনেই ঢাকার বিএনপিকর্মীদের মধ্যে আস্থার জায়গা করে নিয়েছিলেন।
২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছিল তাকে। বিতর্কিত সেই নির্বাচনে হেরে যান তিনি। এরপর আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলেও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে মেয়রের পদে বসা হয়নি তার, সেজন্য আন্দোলনেও নেমেছিলেন তিনি।
এরপর এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন ৩৯ বছর বয়সী ইশরাক। এরপর গঠিত তারেক রহমানের সরকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
গত শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ইশরাক অস্ত্র হাতে নামার পর তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। পিস্তল উঁচিয়ে তার অভিযান আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা ওঠে।
পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর খবর আসে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন ইশরাককে। গণমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশের পর ইশরাকের দপ্তর থেকে তা গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রাতভর নাটকীয়তার পর গতকাল সকালে ইশরাক জানান যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন তিনি। দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, দল যাতে বিব্রত না হয়, সেজন্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।




