আগামীর চোখ
ছুটির আপেক্ষিকতা সূত্র

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
শিক্ষা সচিব
তিন দিনের ছুটি চেয়ে স্কুল থেকে বের হলেন শিক্ষক। আমরা অভিভাবকরা ভেবেছিলাম— তিন দিন পরই স্যার ফিরবেন, ক্লাসে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বলবেন, ‘বই খোলো।’ কিন্তু হায়! তিন দিন যে কীভাবে সাড়ে তিন বছরে রূপান্তরিত হলো, সেটি এখন শিক্ষাবিদদের জন্য গবেষণার বিষয়!
আমরা জানতাম মহাকাশে নাকি সময় ধীরে চলে। কিন্তু আমাদের প্রধান শিক্ষক প্রমাণ করলেন, বাংলাদেশের তিন দিন আর আমেরিকার সাড়ে তিন বছর আসলে সমান কথা! পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় একে হয়তো বলা যায়— ছুটির আপেক্ষিকতা সূত্র। স্যার হয়তো ভাবছেন, ‘আমি তো তিন দিনই কাটালাম, ঢাকার ঘড়ি কেন এত জোরে ঘোরে?’
খবর বলছে, সম্মানিত শিক্ষক মহোদয় এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন— অবশ্য স্কুলের অনুমতি নিয়ে নয়। অর্থাৎ ছুটির আবেদনটি ছিল স্থানীয় সময় অনুযায়ী; কিন্তু ছুটির বাস্তবায়নকাল আপেক্ষিকতার সূত্র অনুযায়ী!
অথবা স্যার হয়তো তিন দিনের ছুটির সঙ্গে ‘সাড়ে তিন বছর বাড়তি’ কোনো বিশেষ অফার পেয়েছিলেন। এরকম প্যাকেজ যদি থাকে, তাহলে তো তোফা। সরকারি চাকরিজীবীরা নিশ্চয়ই এরপর তার দেখাদেখি এরকম প্যাকেজসহ ছুটি কাটাতে যাবেন।
রেকর্ড থাকুক রেকর্ডের জায়গায়; স্কুলে শিক্ষক ফিরুক স্কুলের জায়গায়
আরও মজার বিষয় হলো— স্কুলে স্যার নেই; কিন্তু চাকরির পদটি আছে। শিক্ষার্থীরা হয়তো এতদিনে বুঝে গেছে, শিক্ষক দুই ধরনের— একজন যিনি ক্লাস নেন, আরেকজন যিনি ক্লাস না নিয়েও কাগজ-কলমে শিক্ষক থাকেন!
অভিভাবকদের অবস্থা আরও করুণ। সন্তান স্কুলে গিয়ে শিক্ষক খোঁজে, শিক্ষক পাওয়া যায় না। শিক্ষককে খুঁজতে গিয়ে যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত চলে যায়, তাহলে সেটি শিক্ষাসফর হবে, নাকি শিক্ষক অনুসন্ধান অভিযান— তা নিয়ে নতুন করে সেমিনার করা যেতে পারে। তবে রসিকতার আড়ালে বিষয়টি মোটেই হাসির নয়।
তাই অাপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি— স্যারের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ‘দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাছুটি’ ধরে নেওয়া হবে, নাকি ‘অনুমতিহীন অনুপস্থিতি’ হিসাবে দেখা হবে, সেটি দ্রুত পরিষ্কার করা হোক। প্রয়োজন হলে স্যারের ছুটির ক্যালেন্ডারটি আপেক্ষিকতার মানদণ্ডে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
তিন দিনের ছুটি নিয়ে সাড়ে তিন বছর অনুপস্থিত থাকার নজির যদি শিক্ষাব্যবস্থার নতুন রেকর্ড হয়, তাহলে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া যেতে পারে। তবে রেকর্ড থাকুক রেকর্ডের জায়গায়; স্কুলে শিক্ষক ফিরুক স্কুলের জায়গায়।
শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের গল্প শুনতে চায় না— তারা চায় শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে, বই হাতে, নিয়মিত পাঠ নিতে।
ইতি
একজন উদ্বিগ্ন অভিভাবক






