স ম্পা দ কী য়
‘আগামীর সময়’ এখন আপনার হাতে

প্রশ্নটা অবান্তর নয়। চারদিকে তথ্যের জঞ্জাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের মহোৎসব। না চাইতেই মোবাইলে ভেসে উঠছে দেশ-দুনিয়ার কোলাহল। এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আবার একটা দৈনিক পত্রিকা? উত্তরটা সোজা। তথ্যের এই বন্যায় আসল সত্য আজ নিজেই বিভ্রান্ত ও মৃতপ্রায়। চারপাশের চিৎকার যত বাড়ছে, মানুষের আসল কণ্ঠস্বর তত বেশি তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেই তলিয়ে যাওয়া কণ্ঠস্বরকে টেনে তুলতে এসেছি। আমরা আপনাদের ‘তৃতীয় চোখ’ হতে চাই।
আজকের পাঠক একমুখী নন। আমাদের সামনে এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ। একদিকে ‘বুমার’ এবং ‘মিলেনিয়াল’ প্রজন্ম। অন্যদিকে চঞ্চল ‘জেন-জি’। আর দরজায় কড়া নাড়ছে সম্পূর্ণ নতুন ‘আলফা’ প্রজন্ম। এই চার প্রজন্মের চিন্তার প্রক্রিয়া আলাদা। রুচি আলাদা। জগৎ দেখার চোখও সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘আগামীর সময়’ এসব বিচ্ছিন্ন প্রজন্মকে মিথস্ক্রিয়ায় নিতে চায়। আমরা জেনারেশন গ্যাপের গল্প শোনাব না, আমরা হতে চাই সবার ভাবনার এক অভিন্ন, ধারালো উঠোন। তরুণদের ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে প্রবীণদের ছুড়ে ফেলা নিঃসঙ্গতার গল্প— সব থাকবে এই এক কাগজে। আমরা হতে চাই একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক দৈনিক। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি স্পষ্ট এবং আপসহীন। এই পাতা কেবল কিছু তাত্ত্বিক জাবর কাটার চারণভূমি নয়। এটি আমাদের প্রতিদিনের খবরেরই এক নির্মম প্রতিফলন। যে খবর প্রকাশ করব, সম্পাদকীয় পাতায় থাকবে তারই ব্যবচ্ছেদ। আমরা সাংবাদিকতাকে মানুষের পক্ষে ফিরিয়ে দিতে চাই। কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি আমাদের পেশা নয়। আমরা নিরপেক্ষতার নামে নীরবতায় বিশ্বাসী নই। আমাদের নীতি একটাই— অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে মানুষের অধিকারের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করা।
আমরা প্রান্তিক মানুষের কথা বলব। যাদের কোনো বড় যোগাযোগ নেই, প্রভাবশালী মন্ত্রী-আমলার আত্মীয়তা নেই, পুলিশ বা আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে যারা ফতুর— এই কাগজ তাদের শেষ অস্ত্র। আমরা শুধু ঠান্ডা ঘরে বসে খবর আর খবরের বিশ্লেষণ লিখে দায় সারব না। ক্ষমতার ‘উঁচু মানুষ’দের প্রশ্ন করার সাহস এই কাগজ প্রতি মুহূর্তে দেখাবে। সমস্যার শেষ না দেখে আমরা মাঠ ছাড়ব না।
গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধ আমাদের প্রধান চালিকাশক্তি। অতিরাজনীতি বা অকারণ কাদা ছোড়াছুড়ির যে নোংরা খেলা চলছে, আমরা তার অবসান চাই। তিক্ত তর্কের বাইরেও যে একটা সাধারণ মানুষের জীবন আছে, অধিকার আছে, আমরা তা-ই মনে করিয়ে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য কাউকে ধ্বংস করা নয়, বরং প্রশ্ন করা। যার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ হবে, তিনিও যেন বোঝেন এটা তারও মিডিয়া। আমরা দোষ ধরিয়ে দেব শুদ্ধ করার জন্য, শেষ করার জন্য নয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ। ন্যায়ের প্রতি নিষ্ঠতা। আক্রমণকারীকে প্রতিরোধ। আর আক্রান্তকে শেষ ভরসা দেওয়া— এটুকুই আমাদের বিশ্বাস। আমরা প্রতিদিনের শুরুটা করতে চাই এক ঝলক আলো দিয়ে। চারপাশের চিল-চিৎকার, শোরগোল, বিশৃঙ্খলা, যুদ্ধ, সংঘাত, বিপর্যয়ের ভিড়ে দিশাহারা মানুষ যেন আগামীর সময়ে সকালে চোখ রেখেই স্বস্তি পায়, অমানবিক বাস্তবতায় তার মানবিক ইতিহাস মনে আসে। যা পড়ে আপনার পিঠ সোজা হবে, মনে হবে— ‘আমিও তো পারি!’
আজকের এই পচে যাওয়া সময়ে দাঁড়িয়ে হাত বেঁধে সাঁতার কাটার মতোই কঠিন এই সাংবাদিকতা। কিন্তু আমরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁতার কাটতেই নেমেছি। মানুষের ভেতরের ঘুমন্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলাই আমাদের আসল কাজ। কাগজটি হাতে নিয়ে এবার আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন— এর কি সত্যিই কোনো দরকার ছিল না?
‘আগামীর সময়’ এখন আপনার হাতে। সিদ্ধান্ত আপনার।




