Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসুস্থদের ঠিকানা তাজুলের বৃদ্ধাশ্রম
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কলাম

সিএসপিদের মতো দাপুটে আমলা মিলছে না কেন

এহসানুল হক
agamir somoy
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫
সিএসপিদের মতো দাপুটে আমলা মিলছে না কেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকের ঘটনা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইনকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান করা হলো। আমি তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক। দীর্ঘদিন সচিবালয় বিটে কাজ করার সুবাদে তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। স্বাভাবিক কারণেই অভিনন্দন জানানোর সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে কাজটা সেরে ফেললাম। তবে জিজ্ঞাসা করেছিলাম— স্যার, আপনি অভয় দিলে একটি প্রশ্ন করতে চাই। বললেন, হুঁ। বেশ সাহস করেই বলে ফেললাম— বিএনপি ও আওয়ামী লীগ— দুই আমলেই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা সচিব এবং এনবিআরের চেয়ারম্যানের মতো পদেও। এখন নির্দলীয় সরকার এসে পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে বসাল। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়... বাক্য শেষ না করতেই জবাব দিলেন— সবই সরকারের সিদ্ধান্ত। একটু থেমে বলতে শুরু করলেন, ‘আমি সবসময়ই নিজেকে একজন জনগণের সেবক বা সিভিল সার্ভেন্টই মনে করেছি এবং ধারণ করেছি সেটি। তবে যেখানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখেছি— জনগণের ক্ষতি হতে পারে, সেখানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। সরকারপ্রধানসহ নীতিনির্ধারকরা সেগুলো বিবেচনা করতেন বেশ গুরুত্বসহ। কখনো বাতিল করেছেন সিদ্ধান্ত, সংশোধন করেছেন অথবা শোনেননি। আমি এটুকুই করেছি।’

ড. সা’দত হুসাইন একা নন, সিএসপি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) থেকে আসা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রশাসনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তখন সাবেক সিএসপি ১৮০ ও ৭২৪ জন ইপিসিএস (সিভিল সার্ভিস অব ইস্ট পাকিস্তান) কর্মকর্তা যোগ দিয়েছিলেন প্রশাসনে। তাদের সিংহভাগই ছিলেন বেশ মেধাবী, দক্ষ, সাহসী ও পেশাদার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সামরিক ও নির্দলীয় সরকার— সব আমলেই নিজেদের পেশাগত পরিচয় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাদের কর্মজীবন থেকে একটি শিক্ষা স্পষ্ট— সরকারের প্রতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য প্রকাশ করা এক বিষয় নয়। কিন্তু প্রশাসন যদি রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনগণের আস্থায় চিড় ধরে।

ড. সা’দত হুসাইন ওইদিনই নিজ থেকে যোগ করেছিলেন আরও কিছু তথ্য। বলছিলেন, ‘সিএসপি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই আমার মতোই পেশাদারিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে বিসিএস (সিভিল সার্ভিস অব বাংলাদেশ) কর্মকর্তারাও কিন্তু কোনো অংেশ কম নন। তাদের অনেকেই সিএসপি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলে অবশ্যই সফল হতেন। কিন্তু অযোগ্যদের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছেন। তারা মূল কাজ বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীনদের লেজুড়বৃত্তিতে ব্যস্ত সময় কাটান; যাদের বেশিরভাগই অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী। তারাই সবার আগে বাগিয়ে নেন পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং। লিখে রাখো— এভাবে চললে মেধাবীরা বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢোকার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, মেধাশূন্য হবে আমলাতন্ত্র; ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র।’ এভাবেই শঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন সিএসপি ১৯৬৯ ব্যাচের এই দাপুটে আমলা।

তবে সিএসপিদের একটি ছোট অংশ প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা, দক্ষতা থাকার পরও নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিসিএস কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন দলীয়করণে। উসকে দিতেন নানা অনিয়মে। এসব সিএসপি সরকারের প্রভাবশালী আমলা হিসেবে ছড়ি ঘোরাতেন। বিশেষ করে পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বিদেশ সফরসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে বড় ভূমিকা রাখতেন। তাদের কেউ কেউ পরে জড়িয়েছেন রাজনীতিতে। মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতাসীনদের নীতিনির্ধারক হয়েছেন। অন্যদিকে তাদের এই ফাঁদে পড়ে অনেক মেধাবী বিসিএস কর্মকর্তা হয়েছেন নানা কারণে দলবাজ। ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনা না বললেই নয়; তখন সাবেক সচিব (সিএসপি) মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বে সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করেছেন আমলারা, যা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার যে চর্চা ছিল, সেখানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন সরকারের আমলে গুটিকয়েক উচ্চাভিলাষী সিএসপির এমন কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে তাদেরই সহকর্মীদের (সিএসপি) পেশাদারিত্বের খ্যাতি।

যেভাবে দলীয়করণ

বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের সূচনালগ্নেই ছিল গলদ। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল দলীয়করণ। বিশেষ করে ১৯৭৩ ও ১৯৮২ (বিশেষ) ব্যাচের নিয়োগ নিয়ে বছরের পর বছর ছিল নানা প্রশ্ন। এসব নিয়োগে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দলীয়করণে প্রধান অস্ত্র ছিল— ‘আমার লোক নয়’ চিহ্নিত করে বছরের পর বছর কোনো কারণ ছাড়াই ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) ও পদোন্নতিবঞ্চিত করা হতো। প্রয়োজনে দেওয়া হতো বাধ্যতামূলক অবসর। আর ‘আমার লোক’ চিহ্নিত করে যোগ্য জ্যেষ্ঠদের ডিঙিয়ে কনিষ্ঠদের দেওয়া হতো পদোন্নতি। পাশাপাশি চুক্তিতে নিয়োগ ছিল রীতিমতো স্থায়ী সংস্কৃতি। প্রশাসনের এসব অনিয়ম প্রায় সব সরকারের আমলেই কমবেশি হয়েছে। কোনো কোনো সময় চলে গেছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিশেষ করে ১৯৯২ সালে ১৮তম ব্যাচের ৩৯৬ কর্মকর্তাকে নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষায় উপসচিব পদে পদোন্নতির ঘটনা বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তাদের সিংহভাগই ছিলেন ১৯৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হুদাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরে যেতে হয়েছিল। অথচ পদোন্নতি দেওয়ার আগে সিএসপি আমলাদের পরামর্শ ছিল— পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। কারণ ব্যাচটির নিয়োগ হয়েছিল কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই, নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে।

সব মিলিয়ে এখন সিএসপিদের মতো যোগ্য, মেধাবী ও সাহসী আমলা হয়ে ওঠার পথে মূল বাধা দলীয়করণ। কারণ ক্ষমতাসীনদের লেজুড়বৃত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগানো, জ্যেষ্ঠদের ডিঙিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী কনিষ্ঠরা পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন বা হচ্ছেন প্রভাবশালী। স্বাভাবিক কারণেই মন্ত্রী-এমপিদের অযাচিত হস্তক্ষেপে যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন না এই সুবিধাভোগীরা।

অথচ বিসিএসের দক্ষ ও মেধাবী সিংহভাগ কর্মকর্তা নিজেদের কার্যপরিধি অনুযায়ী বিধিবিধান মেনে সব কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কাজ করতে চান পেশাদারিত্বের সঙ্গে। আন্তরিকভাবেই চান না দলীয়করণ। যার আভাস মিলেছে ঢাকা জেলার সাবেক ডিসি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদের এক ফেসবুক পোস্টে। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে গত সেপ্টেম্বর মাসে তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সিভিল সার্ভিসে প্রফেশনালিজম তথা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা খুব প্রয়োজন। এই প্রফেশনালিজম সরকারের পারফরম্যান্স বাড়ায়, ফলশ্রুতিতে যা সরকারকে জনপ্রিয় করে তোলে।’ গোটা প্রশাসনে যদি সরকারি সংস্থাগুলো দিয়ে গোপনে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়, সেখানে তানভীরের কথাই প্রতিফলিত হবে।

শৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি

একজন কর্মকর্তাকে কেন বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হচ্ছে, বছরের পর বছর ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতিবঞ্চিত হচ্ছেন— এর কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বক্তব্য পেশের যথাযথ সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, আপিলের সুযোগ এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি। তাহলেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মকর্তাদের পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব। আর ভবিষ্যতে এ ধরনের শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকবে না।

এখনই ফুলস্টপ

অতীতের সব অসুস্থ প্রতিযোগিতার কথা ভুলে গিয়ে দলীয়করণ বন্ধে এখনই ‘ফুলস্টপ’ দেওয়া জরুরি। বর্তমান সরকারের পক্ষেই এটি সম্ভব। কারণ ১৭ বছরের সীমাহীন মামলা, হামলা, জেল, রক্তপাত, অবশেষে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে আজকের এই বিএনপি। ‘আমার লোক, তোমার লোক’ চিহ্নিত করার বহু বছরের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় অধিকাংশ সিএসপির মতো দক্ষ আমলা তৈরি হবে না। আমলাতন্ত্রে রাজনৈতিক দলবাজি যে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা রোধ করা না গেলে এর কার্যকারিতা ও উপযোগিতা দুটিই হারাবে। পাশাপাশি পরিণত হবে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে। সব মানুষের জন্য কাজ করার পরিবর্তে একটি দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই ব্যস্ত দিন কাটাতে হবে, যা প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলছে। সব মিলিয়ে মেধাশূন্য সুযোগসন্ধানী বাহিনী হয়ে উঠবেন জনগণের সেবক নামের আমলারা।

সিএসপিদের কয়েকটি ঘটনা, যা অনুকরণীয়

যৌক্তিক সাহসী পদক্ষেপ

১৯৮৪ সালের কথা। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মার্শাল ল আমল। বিসিএসের (প্রশাসন) ১৩০ নবীন কর্মকর্তা পাঁচ সপ্তাহব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন চট্টগ্রামে। প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি সামান্য বিষয়ে প্রশিক্ষকের সঙ্গে মতবিরোধ হয়। এতে তৎকালীন সংস্থাপনমন্ত্রী ৯ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। তখন সংস্থাপন সচিব ছিলেন সাবেক পাকিস্তান সেন্ট্রাল সার্ভিসের সদস্য এহসানুল হক। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত নথি বিধান অনুযায়ী তার কাছে উপস্থাপন করা হয়। সেই নথিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘ইট হ্যাজ নট ফলোউড দ্য রুলস আনলেস দিজ প্রভিশনারি অফিসার্স আর গিভেন অপরচুনিটিস অব বিয়িং হার্ড, দে কেন নট বি প্লেসড আন্ডার সাসপেনশন। সো, দে কেন বি ডাইরেক্টেড টু এক্সপ্লেইন দেয়ার পজিশন (নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি; কারণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এই প্রবেশনারি কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা যায় না। তাই, তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে)।

ওই সময় প্রশাসন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ছিলেন সাবেক সিএসপি মনযূর উল করীম। তিনি সিএমএলএ (চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর)-কে বলেছিলেন, ‘আই ফিল দ্য পালস অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার্স, প্লিজ ‍ডু নট স্যাট দেম অ্যাব্লেইজড (আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হৃৎস্পন্দন অনুভব করতে পারছি; দয়া করে তাদের আগুনে জ্বালাবেন না)। এর পরপরই তৎকালীন সংস্থাপনমন্ত্রী নির্দেশিত হয়ে সংস্থাপন সচিবকে নোট দিয়েছিলেন, ‘দ্য সিএমএলএ ওয়ান্টস দ্যাট দ্য মেটার বি ক্লোজড ইমিডিয়েটলি উইথআউট অ্যানি ফারদার অ্যাকশন (সিএমএলএ চান যে, আর কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই বিষয়টি অবিলম্বে নিষ্পত্তি করা হোক)।

এভাবেই স্রেফ যৌক্তিক অবস্থান থেকে একজন চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের বরখাস্ত করা সঠিক হবে না। চাকরির শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন ওই ৯ কর্মকর্তা। পরে তাদের দুজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বাকিরা সচিব হয়েছিলেন।

দক্ষতা বাড়াতে আন্তরিক

২০০৪ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি নিউ এজ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। ওই বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার (ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস-টিআইপি) প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় (সর্বশেষ) স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় স্তরে থাকলে এবং পাচার রোধে দৃশ্যমান উন্নতি না করলে দেশটির ওপর নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন সাহায্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বন্ধ বা স্থগিত করা হয়। এতে তৎকালীন সরকারপ্রধান খালেদা জিয়া বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র সচিব মুহাম্মদ ওমর ফারুককে ডেকে পাঠান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তাদের রিপোর্টে আমাদের পদক্ষেপের অনেক কিছুই স্থান পায়নি। আমরা আবার আগের স্তরে শিগগিরই ফিরে যাব। সত্যি সত্যিই ২০০৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘টায়ার ২ ওয়াচলিস্ট’-এ ফিরে আসে। তবে এর আগে যেটি হয়েছিল— ওমর ফারুকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক। সর্বশেষ প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকটি আমি কাভার করেছিলাম। সেই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব প্রায় এককভাবে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তাদের। কিন্তু স্বরাষ্ট্র সচিব বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন তার সহকর্মীদের ওপর। কারণ মানব পাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইংরেজি ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে বৈঠকে নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারছিলেন না। যদিও কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ পরিস্থিতি বুঝে ওমর ফারুক নিজেই পুরো বৈঠক টেনে নিয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পর, এক বিকালে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চারতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি সব স্তরের কর্মকর্তারা সভাকক্ষের দিকে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন। সবার হাতে ডায়েরি ও ইংরেজি গ্রামার বই।

আমার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোনো জরুরি বৈঠক আছে কি না। উদ্দেশ্য— খবরের সন্ধান। কিন্তু তারা বলছিলেন, ক্লাসে যাচ্ছেন। ইংরেজি ভাষা উন্নয়ন। প্রতিদিন অফিস ছুটির পর ‘সচিব স্যারের’ ক্লাসে উপস্থিত হতে হয়। এ ধরনের ঘটনা সত্যিই আমলাতন্ত্রে নজিরবিহীন।

জনসেবায় নিবেদিত

১৯৬৬ ব্যাচের সিএসপি ও সাবেক সচিব এম মোফাজ্জল করিম। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। রাত সোয়া ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। টানা পৌনে দুই ঘণ্টার আড্ডায় তার চাকরিজীবনের নানা কাহিনি এক এক করে তুলে ধরছিলেন। সবই ছিল বেশ ঘটনাবহুল, রোমাঞ্চকর, যা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বর্তমান আমলাদের। সব লিখতে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ বই হয়ে যাবে। তবে একটি ঘটনা এ মুহূর্তে না বলে পারছি না। ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকের কথা। তিনি ছিলেন কুষ্টিয়ার ডিসি। স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন, “একদিন সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হচ্ছিলাম। একজন বৃদ্ধ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে। জিজ্ঞাসা করলাম, কী চান? বৃদ্ধ বললেন, ‘আমি ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিন দিন ধরে অপেক্ষা করছি।’ আমি বললাম, আমিই ডিসি। তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলেন। আমার স্টাফ অফিসারকে বললাম তার সমস্যার কথা শুনে ব্যবস্থা নিতে। ওই ভদ্রলোকের বাড়ি ছিল ইনসাফনগরে।”

এরপর তিনি বলছিলেন, অফিসে গিয়ে ভাবলাম ওই ব্যক্তির মতো তো অনেকেই আছেন, যারা নানা সমস্যায় ভুগছেন। তখন কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক। যাহোক, আমি একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম— সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শোনার। বিভিন্ন গ্রাম ও ইউনিয়নে ‘ফরিয়াদ অনুষ্ঠান’ নামে একটি কর্মসূচি নিলাম। সেখানে জেলার অন্যান্য দপ্তরের প্রধানরাও থাকতেন। কর্মসূচি শুরু করলাম ওই ব্যক্তির ইনসাফনগর দিয়ে। এলাকাবাসীর সমস্যার কথা সরাসরি শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে জনসচেতনতা বাড়ালাম। তাদের বোঝাতে সক্ষম হলাম— অনেক রক্তপাতের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। খুনোখুনি, লুটপাট করলে আমাদের এই কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারব না। গ্রাম ধরে ধরে এলাকাবাসীকেই দায়িত্ব দেওয়া হলো। তারাই আমার কাছে এসে তাদের নানা পদক্ষেপের কথা জানাতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করত। আর খুব জরুরি ছাড়া গ্রেপ্তার করাও নিষেধ ছিল। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেই সব করা হতো। অবিশ্বাস্যভাবে সবকিছু পরিবর্তন হলো। পরে প্রত্যেক ডিসিকে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজনের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

চাপের মধ্যেও বিধিবিধান অনুসরণের চেষ্টা

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিধিবিধান অনুসরণের চেষ্টা করা হতো। এ প্রসঙ্গে গত ২২ সেপ্টেম্বর কথা হচ্ছিল সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “অনেক সময় কোনো সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত না হলেও তা বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলাদের ওপর চাপিয়ে দেন। তখন অসহায়ত্ব না দেখিয়ে বরং বোঝাতে হবে, এটি বিধিসম্মত নয় অথবা হিতে বিপরীত হবে। আমিও কোনো কোনো সময় এমন চাপে পড়েছি। যখন কোনোভাবেই বোঝাতে পারিনি, তখন সেই নথিতে লিখে দিতাম— ‘এটি বিধিসমম্মত নয়, তবে প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রী/উপদেষ্টা/প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে অনুমোদন দেওয়া হলো’।” ‘পরে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক এ ধরনের নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থেকেছেন’— যোগ করলেন সাবেক এই সিএসপি কর্মকর্তা।

শেষ কথা

সবশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের সংকট শুধু আমলাদের নয়; এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সংকট। সরকার বদলাবে— এটিই গণতন্ত্র। কিন্তু সরকার বদলালেই যদি প্রশাসনের আনুগত্যের মানদণ্ড বদলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক কারণেই দুর্বল হয়ে পড়ে। এবার কি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই অঙ্গীকার করবে যে— প্রশাসন হবে রাষ্ট্রের, কোনো দলের নয়? তবে এ অঙ্গীকার কার্যকর অর্থেই করতে হবে। কারণ প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্রের কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিল; কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।

 

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, আগামীর সময়

 

পিএসসিআমলাসিএসপি
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    মাধবপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    মাধবপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

    চা বাগানের কুঁড়েঘর থেকে হার্ভার্ডে

    চা বাগানের কুঁড়েঘর থেকে হার্ভার্ডে

    চেক ডিজঅনার মামলায় মোহনগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    চেক ডিজঅনার মামলায় মোহনগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

    দেশের সব হাসপাতাল লাইব্রেরিতে রাখতে হবে জিয়া-খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিন বই

    দেশের সব হাসপাতাল লাইব্রেরিতে রাখতে হবে জিয়া-খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিন বই

    ভারত থেকে আসছে ১৮ রেলওয়ে কোচ

    ভারত থেকে আসছে ১৮ রেলওয়ে কোচ

    মাছ চুরির অপবাদে সাতক্ষীরায় মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    মাছ চুরির অপবাদে সাতক্ষীরায় মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস : গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি চাকরিজীবী

    যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস : গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি চাকরিজীবী

    মোটরসাইকেলের সামনেও রাখতে হবে নম্বর প্লেট, নইলে আইনানুগ ব্যবস্থা

    মোটরসাইকেলের সামনেও রাখতে হবে নম্বর প্লেট, নইলে আইনানুগ ব্যবস্থা

    দরিদ্র খুঁজতেই ব্যয় ২০১০ কোটি টাকা

    দরিদ্র খুঁজতেই ব্যয় ২০১০ কোটি টাকা

    ঔষধি গাছে আয় ও আয়ু : ১৬ গ্রামের ১০ হাজার মানুষের ভাগ্যবদল

    ঔষধি গাছে আয় ও আয়ু : ১৬ গ্রামের ১০ হাজার মানুষের ভাগ্যবদল

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ২ বাংলাদেশির তথ্য চেয়ে চিঠি

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ২ বাংলাদেশির তথ্য চেয়ে চিঠি

    সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন: ছাত্রদল নেতা

    সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন: ছাত্রদল নেতা

    জুমার নামাজের পর বিশ্বনাথে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    জুমার নামাজের পর বিশ্বনাথে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    মেঘনা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কিরন, সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান

    মেঘনা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কিরন, সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান

    আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিল বিএসএফ

    আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিল বিএসএফ