Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
অবহেলিত প্রবীণদের ঠিকানা সাজুর বৃদ্ধাশ্রম
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কলাম

যে অঙ্ক মোদির জন্য ভয়ের

মুজাহিদ অনীক
agamir somoy
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৪
যে অঙ্ক মোদির জন্য ভয়ের

সংগৃহীত ছবি

ভারতের জনগণের অর্থনৈতিক দারিদ্র, আয়বৈষম্য এবং কেন্দ্র ও দেশের প্রান্তগুলোর সুদূর ব্যবধানের মাঝে ভারতীয়দের গর্বের ধন- গণতন্ত্র এবং তার হৃদপিণ্ডখ্যাত নির্বাচনব্যবস্থা। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে বহুবার নির্বাচন কমিশন খবরের শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু এবার ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং তার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যেভাবে গণবিক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন; হলফ করে বলা যায়- স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এরকমটা দেখা যায়নি।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’- এর সাংবাদিক ঋতিকা চোপরার এক সংবাদ প্রকাশের পর থেকে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ প্রধান শহরগুলো উত্তাল। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকি দুই কমিশনারের ক্রমাগত মতবিরোধ সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশশনার একক কতৃত্বে ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যাাচ্ছেন। ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করার জাতীয় ব্যবস্থা ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’-এর মাধ্যমে কোটি কোটি ভোটারকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত একাই নেন জ্ঞানেশ। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ও দলিতশ্রেনীর ভোটারদের গণহারে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলো জ্ঞানশের ক্ষমতাবলেই হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ওপর ভর করে বিরোধীরা বলছেন, বিজেপি সরকারের সুবিধা করে দিতে জ্ঞানেশ কুমার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। শুধু তাই নয়, জ্ঞানেশ হিন্দুত্ববাদী সরকারের এজেন্ডাকে নিজের করে নি য়েছেন। জ্ঞানেশ, মোদির মতোই স্বৈরাচারী কায়দায় কমিশনকে ব্যবহার করছেন এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভোট চুরি করছেন।

মুজাহিদ অনীক

ওই প্রতিবেদনের পর জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসসহ আঞ্চলিক স্তরে বিজেপিবিরোধী শক্তিগুলো রাজপথে নেমেছে। ১০ অক্টোবর শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সকাল থেকে গণহারে আটক করা শুরু করে। রাজধানী দিল্লির পুলিশের হাতে আটক হন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের মার্কসবাদী কমিনিস্ট পার্টির (সিপিআইএম) নেতা ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিপিআইএমের আরেক নেতা কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ান এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আটক করা হয়েছে আন্দোলনের ‘পোস্টারগার্ল’ হিসেবে আবির্ভূত ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা)’ সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা থেকে শুরু করে ভারতীয় ছাত্ররাজনীতির প্রধান প্রধান মুখগুলোকে।

বিক্ষোভের কেন্দ্রে থাকা সাড়াজাগানো ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে এদিন দিনভর পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ-যুবা ও রাজনীতিককে আটক করা হয়। গত কয়েক দিনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কয়েকবার আটক করা হয়। বোঝা যাচ্ছে, সহজে বিক্ষোভ থামবে না। এবং বিক্ষোভের রেশ কোথায় গিয়ে পড়ে, সেটাও এখন নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। শেষমেশ মোদির গদিতে টান পড়ে কী না, সেটাও দেখার বিষয়।

প্রকৃতপক্ষে, ভারত এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আত্তীকরণ করেছে দশকের পর দশক ধরে যেখানে রাজনীতিবিদরা এটুকুতে অঘোষিতভাবে চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন, যেভাবেই হোক ক্ষমতার হাতবদলকে তারা অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থার মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন করবেন। বস্তুত ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা ছোটোখাটো বিতর্কের মধ্যেও জনপ্রতিনিধিত্বের বাইরের কোনো উর্দিধারী অস্বাভাবিক শক্তিকে দেখা যায়নি। সেজন্য বুর্জোয়া গণতেন্ত্র ভারতীয়রা নিদেনপক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করলে দোষ দেওয়া যেত না। বিষয়টা তর্কসাপেক্ষ ধরে নিলেও ইদানিং তর্কাতীত যে ভারতের মতো বহু জাতি, ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির ফেডারেল ব্যবস্থায় নির্বাচন ব্যবস্থও মোদির জামানায় কলুষিত হয়েছে। বিরোধী পরিসরের পাশাপাশি ভারতীয় গণতন্ত্রের গুণগ্রাহীরা বলছেন, বিজেপির দীর্ঘ শাসনামলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতাকে ধ্বংস হয়েছে। বাম-প্রগতিশীল-ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির অভিযোগ, বিজেপি হলো মুখোশ, আদতে এসবের ক্রীড়নক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং তার হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ।

এ মুহূর্তে কোটি টাকার প্রশ্ন হলো—বিক্ষোভের জোয়ারে কি নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ জুটির ‘প্রতাপশালী’ সরকার ভেসে যাবে? প্রশ্নটির উত্তর যেমন সরল নয়, আবার অতি জটিলও নয়। হয়তো অবিকশিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো মোদি-শাহদের সরকারের জায়গায় আকস্মিক, অস্বাভাবিক ও অগণতান্ত্রিক কোনো সরকার স্থলাভিষিযক্ত হবে না; কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে থেকে সরকারবদলের সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। এবার প্রশ্ন হতে পারে, সেটা কিভাবে? বিষয়টি কয়েকটি নিয়ামকের ওপর দাঁড়িয়ে।

প্রথমত, ভারতের রাজনীতিতে বর্তমানে বিশেষত বিগত চার-পাঁচটি লোকসভা নির্বাচনে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রভাব বেশ বেড়েছে। দলগুলোর বেশিরভাগের জন্ম বিজেপি ও কংগ্রেসের গর্ভে। সর্বভারতীয় জোটরাজনীতিতে এরা কংগ্রেস ও বিজেপির নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোর সমাবেশ এবং অন্যদিকে বিজেপির ছায়াতলে সকল ডান-অতিডানপন্থিরা। বাস্তবে দেখা যায়, সিপিআইএম এবং সিপিআইএমএলের মতো ‍কিছু সর্বভারতীয় বামপন্থি দল—যাদের অনেকেরই এখন সংসদীয় রাজনীতির অবস্থান দুর্বল—কংগ্রেসের সঙ্গে আদর্শিক বোঝাপড়ায় বিশ্বস্ত হলেও রাজ্যভিত্তিক আঞ্চলিক দলগুলো শিবিরবদলে অভ্যস্ত। ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলোকে তাই কংগ্রেস ও বিজেপির আদর্শিক নিক্তির ভিত্তিতে যেকোনো এক কাতারে ফেলা অসম্ভবের কাছাকাছি। যেমন- বিহারের ঝানু রাজনীতিক জনতা দলের ইউনাইটেডের (জেডিইউ) প্রধান নীতিশ কুমার সর্বশেষ লোকসভার নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধীদলের সঙ্গে গাঁটছাড়া বেঁধে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া)’ জোট গঠন করেন। পরের বছরই তিনি মোদির সঙ্গে হাত মেলান। ১২টি আসন নিয়ে বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)’ জোটসরকারের বড় অংশীদার তাঁর দল। সুতরাং নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নীতিশ কুমার থেকে শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং অন্যরা যদি জনরোষের গণিত কষতে বসেন; তাহলে বিজেপি সরকারের সমানে গভীর খাদ।

দ্বিতীয়ত, সংসদীয় গণতন্ত্রে পার্লামেন্টের সংখ্যাই টিকে থাকার জন্য শেষকথা। যার হাতে সংখ্যা রয়েছে, ক্ষমতা তার হাতে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিজেপি বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের মধ্যে দখল করে রয়েছে মাত্র ২৪১টি। এনডিএ সরকারের অন্যতম বড় শরিক জেডিইউ এবং নাইডুর টিডিপি। এনডিএর আরেক বৃহত্তম শরিক মহারাষ্ট্রভিত্তিক দল রাজ্যটির উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা; তাদের রয়েছে ১৩টি আসন। বিহারের রামবিলাস পাসোয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি) পাঁচটি আসন নিয়ে এনডিএর শরিক। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি দল এনডিএ সরকারের শরিক, তবে তাদের আসনসংখ্যা একটি-দুটির বেশি নয়। সাকুল্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩১৯টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনা করছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে জেডিইউ, টিডিপি,শিবসেনার মতো তিন বৃহৎ শরিকই এনডিএ সরকারের ‘অক্সিজেন’। তবে হ্যাঁ, এ বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির সংসদীয় অঙ্ক একটু শক্ত হয়েছে। ক্ষমতাহারানোর পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে গেছে। লোকসভায় দলটির ২০ জন সদস্য এনসিপিআই নামে একটি দলের সঙ্গে নিজেদের আত্তীকরণ করেছে। মোদির ভিতকে শক্ত করে তুলেছে তৃণমূলত্যাগী এই ২০ এমপি। কিন্তু কথা হলো, এই ২০ এমপির সঙ্গে এখনও মোদি সরকারের সম্পর্ক মসৃণ হয়ে ওঠেনি। পশ্চিমবঙ্গের পুরভোট নিয়ে বিজেপির সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব ক্রমশই প্রগাঢ় হচ্ছে। বিশ্বস্ততার প্রশ্ন এরা মমতার সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্ক ত্যাগ করতে পেরেছে, সুতরাং মোদির কাছে বিশ্বস্ততার পরীক্ষা কতটা ইতিবাচক; সে প্রশ্ন থাকেই।

তৃতীয়ত, আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে ভারতের রাজনীতির বিশ্লেষকদের অভিমত মোটামুটি এরকম—এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, স্থায়ী শত্রু-মিত্রও নেই এবং আদর্শিক প্রশ্নও তত শক্তিশালী নয়। ইতিহাস বিচার করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিন মিত্রতার পর ২০১৪ সালে এনডিএ জোটের মুখ হিসেবে মোদির উত্থান হলে নীতিশ জোট ছাড়েন। ২০১৫ সালে লালুপ্রসাদ যাদবের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে বিহারের রাজ্যসরকার গঠন করেন। ২০১৭ সালে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে হাত মেলান বিজেপির সঙ্গে। ২০২৩ সালে আবার বিজেপির সঙ্গত্যাগের পর আবারও ২০২৪ সালে ১৮তম লোকসভায় বিজেপির সরকার তৈরিতে ভূমিকা রাখেন তিনি। সুতরাং নীতিশ যে এবার জনমতের কথা চিন্তুা করে মোদিকে ছেড়ে আসবেন না, সেই গ্যারান্টি কে দেবে?

১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে শক্তপোক্ত রাজনীতিক হিসেবে নাইডুর আবির্ভাব। ১৯৯৯ সালে বিজেপির প্রয়াত নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে দেখা যায় তাকে। ২০০৪ সালে বিজেপির সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং ২০১৪ সালে আবার বন্ধুত্ব। পরে ২০১৮ সালে বিজেপির জোট ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের আবার মোদি-শাহদের সঙ্গে গাঁটছাড়া বাঁধেন। চন্দ্রবাবু যদি মনে করেন, মোদি সরকারে এখন ভাটার টান; আশ্চর্য হওয়ার কিছু কি থাকবে? নিশ্চয়ই নয়। সুযোগ বুঝে শিবির বদলের অভ্যাস চন্দ্রবাবুর রয়েছে।

ওদিকে মমতার সঙ্গত্যাগকারী এনসিপিআই মোদির পক্ষে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সচেষ্ট হবেন, তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। অঙ্কের হিসেবে যা দাঁড়ায়, তা হলো- ৫৪৩ আসনের লোকসভায় নীতিশ এবং চন্দ্রবাবুর যেকোনো একজনও সমর্থন প্রত্যাহার করলে বড় সংকটে পড়বে মোদির সরকার। তাদের সঙ্গে যদি আরও কয়েকটি ছোটোখালো শরিক শিবির বদল করে; তাহলে জেন-জি প্রজন্মের এ বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতিকে অন্য এক জায়গায় নিয়ে যাবে। নীতিশ-চন্দ্রবাবুদের মিছিল যদি রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, নেহা বোরা, ঐশী ঘোষ, অভিজিৎ দীপকেদের দিকে হাত মেলাতে অগ্রসর হয়; তাহলে মোদির সরকারের ট্রাজেডি লেখা সম্ভব হবে। সমীকরণটা কি অসম্ভব কিছু? না। একেবারেই নয়।


যন্তরমন্তরের বিক্ষোভের তীব্রতা যেভাবে বাড়ছে, মোদি-শাহ যেভাবে আগ্রাসী কায়দায় বিক্ষোভ দমানোর কৌশল নিয়েছেন;তাতে বিক্ষোভের আঁচে মোদির এনডিএ শিবিরর ভাঙনের মতো স্পষ্ট খবর নেই ঠিকই। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস, বাম-প্রগতিশীল দলসহ অপরাপর বিজেপিবিরোধী আঞ্চলিক দলগুলো একাট্টা থাকতে পারলে এবং নাইডু-নীতিশের ওপর জনমতের চাপ বাড়াতে পারলে; বিজেপি সরকার মাথা নোয়াতে বাধ্য। শেষপর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারের কাটায় গদিহারা হতে পারেন মোদি।

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থায় জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি জোরধাক্কা লাগার মতো। কারণ ভারতের ইতিহাসে সরকার ও কমিশনের দ্বন্দ্বের ইতিহাস চর্চিত ও নন্দিত। একবার নয়, বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়। নব্বইয়ের দশকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষনের সঙ্গে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের সরকারের বিবাদ ইতিহাসে বহুল চর্চিত। টিএন শেষন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘থ্রু দ্য ব্রোকেন গ্লাস: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি ’শীর্ষক বইয়ে উঠে এসেছে নরসিমা রাও এবং তার আইনমন্ত্রীর সঙ্গে শেষনের বিবাদের ঘটনাপ্রবাহ। এই বিবাদের প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশনে তিনজন কমিশনার নিয়োগের বিধান চালু করা হয়, যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক কর্তৃত্ব হ্রাস পায় এবং বাকি দুজনসহ তিনজনের সংখ্যাধিক্যের সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হয়। ঘটনাচক্রে জ্ঞানেশ সেই গণতন্ত্রের ওপর ছুড়ি চালিয়েছেন।

আরেকটি উদারহরণ দেওয়া যায়, যা ততো পুরনো নয়। ২০১২ সালের দিকে ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও তৎকালীন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সালমান খুরশিদ নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছিলেন। সেসময় যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য এসওয়াই কুরেশির নেতৃত্বাধীন কমিশন তাকে চাপ দিয়েছিল। কিন্তু প্রথমদিকে খুরশিদ নির্বাচন কমিশনকে উপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু কমিশনের পদক্ষেপে খুরশিদ সেইসময় ক্ষমাপ্রার্থনায় বাধ্য হন।


লেখক: অনুবাদক ও লেখক

ভারতনির্বাচন কমিশনবিক্ষোভসিজেপিবিজেপি সরকারমোদি-শাহ
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ভালোবাসার টানে সরিষাবাড়ীতে ফিনল্যান্ডের যুবক

    ভালোবাসার টানে সরিষাবাড়ীতে ফিনল্যান্ডের যুবক

    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    উঠানে খেলছিল দুই শিশু, নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে

    উঠানে খেলছিল দুই শিশু, নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিষ্কৃত ৫ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিষ্কৃত ৫ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    অটোরিকশাচালক সুমন ধর্ষণের পর হত্যা করে তাজমিনকে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

    অটোরিকশাচালক সুমন ধর্ষণের পর হত্যা করে তাজমিনকে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

    কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

    আপনাদের ভয় নাই, আপনারা প্রকাশ্যে নির্বাচন করবেন: আ. লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপি নেতা

    আপনাদের ভয় নাই, আপনারা প্রকাশ্যে নির্বাচন করবেন: আ. লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপি নেতা

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপন করলে কী ঘটে?

    রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপন করলে কী ঘটে?

    শেয়ার কারসাজিতে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তি, তদন্তে বিএসইসি

    শেয়ার কারসাজিতে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তি, তদন্তে বিএসইসি

    দিল্লিতে বাড়ির সামনে থেকে আটক মমতা

    দিল্লিতে বাড়ির সামনে থেকে আটক মমতা