ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরানের ড্রোন সক্ষমতায় পুতিনের ‘গোপন ভূমিকা’ থাকতে পারে

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার পেছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গোপন সহায়তা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তার মতে, ইরানের কিছু কৌশল ও সক্ষমতার পেছনে মস্কোর ভূমিকা থাকলে তা বিস্ময়কর হবে না।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে ব্রিটিশ সামরিক সদর দপ্তরে এক ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ইরানের ব্যবহৃত কিছু কৌশল এবং সম্ভাব্য সক্ষমতায় পুতিনের গোপন ভূমিকা থাকতে পারে।
হিলি আরও বলেছেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া সরাসরি লাভবান হচ্ছে। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন অর্থের জোগান মিলছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত কিছু যুদ্ধকৌশল রাশিয়া ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। এর বিনিময়ে মস্কো আগে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন পেয়েছিল, যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
উত্তর ইরাকের এরবিলে একটি পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর জন হিলি মন্তব্য করেছেন, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরির মতে ইরানি ড্রোন চালকেরা এখন ড্রোনগুলো খুব নিচু দিয়ে উড়াচ্ছেন। এতে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আরও কার্যকরভাবে আঘাত হানতে পারছে। ওই ঘাঁটিতে ব্রিটিশ সেনাসদস্যরাও অবস্থান করছিলেন। হামলার সময় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। এতে কোনো ব্রিটিশ সেনাসদস্য হতাহত হননি।
এদিকে সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতেও একটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলায় একটি হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জন হিলি বলছেন, ধ্বংস হওয়া ড্রোনের অংশবিশেষ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া বা অন্য কোনো বিদেশি উৎসের যন্ত্রাংশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান ওই অঞ্চলজুড়ে দুই হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেও চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ মিললে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলবে। এতে ন্যাটো জোটকেও তাদের কৌশল নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

