আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম একুশে বইমেলা

প্রবাসের মাটিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বন্ধন দৃঢ় করতে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম একুশে বইমেলা। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের টান এবং বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ বইমেলাকে ঘিরে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দ ও প্রত্যাশার আবহ।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে আগামী ১৮ অক্টোবর, রবিবার, দুপুর ১২টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম একুশে বইমেলা। ডাবলিন সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোকস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এ বইমেলা প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে উদ্যাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠবে।
মাতৃভূমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাস করলেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করেন প্রবাসী বাঙালিরা। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবেশে বসবাসের মধ্যেও নিজের ভাষা ও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার যে নিরন্তর প্রয়াস, একুশে বইমেলা তারই এক আবেগঘন প্রকাশ। তাই এই আয়োজন কেবল বই কেনাবেচা কিংবা লেখক-পাঠকের মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি প্রবাসের বুকে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব, বাঙালির আত্মপরিচয় এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে লালন করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।
বাংলা ভাষার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের এক অনন্য অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তারই উত্তরাধিকার বহন করে একুশে ফেব্রুয়ারি। সেই চেতনা থেকেই একুশে বইমেলা বাঙালির কাছে বিশেষ তাৎপর্য লাভ করেছে। বই, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয়কে নতুন করে জাগিয়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম অনুপ্রেরণা।
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম একুশে বইমেলা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির কাছে ফিরে আসার একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে। বইয়ের পাতায় বাংলা সাহিত্যের বিচিত্র জগৎ, কবিতা ও গল্পের আবেগ, ইতিহাসের স্মৃতি এবং মননশীল চিন্তার যে সমৃদ্ধ ভুবন, তা প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ করে দেয় বইমেলা। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন প্রজন্মের বাঙালির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। জন্মভূমি থেকে দূরে থেকেও নিজের ভাষায় কথা বলা, বাংলা বই পড়া এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করা সাংস্কৃতিক শিকড়কে জীবন্ত রাখার একটি কার্যকর উপায়। একুশে বইমেলা সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চাকে এগিয়ে নিতে পঞ্চম একুশে বইমেলার আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে সৃষ্ট এ আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে—এমন প্রত্যাশা করা যায়।
হাজার মাইলের দূরত্বও যে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারে না, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিতব্য একুশে বইমেলা তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলোয় প্রবাসের জীবনকে আলোকিত করা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে বাঙালির শেকড়ের পরিচয় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে পঞ্চম একুশে বইমেলা হয়ে উঠুক প্রাণের মিলনমেলা।



