স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ, সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রও

ফাইল ছবি
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সমাজসেবা ও জনসেবায় এই পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর)। এছাড়াও মনোনীত হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামক স্বাস্থ্যবিষয়ক এনজিও।
আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য সক্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামক স্বাস্থ্যবিষয়ক এনজিওর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ প্রণয়ন ও ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কোয়েপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। তার বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন জাফরুল্লাহ। পরে ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০২৩ সালে ১১ এপ্রিল পৃথিবী ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান ডা. জাফরুল্লাহ।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় অলাভজনক ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা, যা গ্রামীণ স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও কৃষি নিয়ে কাজ করে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত সাভারে অবস্থিত হলেও সারা দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদান রাখায় মরণোত্তর স্বাধীনতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
মুক্তিযুদ্ধে পুরস্কার পাচ্ছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ও মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত, বশির আহমেদ (মরণোত্তর) ও ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু)।
এছাড়া পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, মো. সাইদুল হক, জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে মুকিত মজুমদার বাবু পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

