পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ‘স্মার্ট রেফারেল কাঠামো’ গড়ে তোলার আহ্বান

ছবি: আগামীর সময়
মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় রেফারেল মেকানিজম’-এর বিকল্প নেই। যেখানে বিভিন্ন অংশীজনদেরও রাখা দরকার।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত সেবাকে আরও গতিশীল ও ভুক্তভোগীবান্ধব করতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় বুধবার অনুষ্ঠিত এই সভায় মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বললেন, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো সময়ের দাবি। এনআরএম এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারীরা একই সুতোয় গেঁথে ভুক্তভোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করবে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহসিনা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানব পাচারের ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের ১০টি জেলায় উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পটি সফলভাবে কাজ করছে। ভুক্তভোগীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে এই প্রকল্প সমন্বিত সহায়তা প্রদান করে আসছে।
সভায় এনআরএম কাঠামোকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও আশ্বাস প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত প্রকল্পের লক্ষ্য ও এনআরএমের কার্যকারিতা তুলে ধরেন।
সভায় এসডিএসের প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম, প্রকল্পের সিনিয়র ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম, পলিসি অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট মৃন্ময় মহাজন এবং রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর টি আই এম মাজহারুজ্জামানসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সব থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ এবং সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পাচার রোধ করা সম্ভব।




