নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল বলছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ ১৫০টির বেশি আসন পেয়েছে।
তবে নতুন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার শুরু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এবার শপথ পড়ানো নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বেসরকারি ফল আনুষ্ঠানিক ফলাফল নয়। ফলে ওই ফল প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে, ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।
সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি ফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
শপথ কে পড়াবেন, এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারণ অতীতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। ডেপুটি স্পিকার কারাগারে।
এ অবস্থায় দৃষ্টি যাচ্ছে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দিকেই। সেখানে বলা আছে, গেজেটে ফল প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াবেন। তিনি ব্যর্থ হলে বা না করলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন, যেন তিনিই নির্ধারিত ব্যক্তি।
অর্থাৎ এখানে দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। তাদের সামনে দুটি বিকল্প আছে। রাষ্ট্রপতির মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির নামও আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি সেটি না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়াবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিন দিন অপেক্ষার বিষয় আছে। সরকার আসলে অপেক্ষা করতে চায় না, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায়।

