ডেপুটি স্পিকার
গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার

ছবি: আগামীর সময়
বর্তমান সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সোমবার নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান তিনি। জাতীয় সংসদ ভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হারভেস্টার যন্ত্র সরবরাহ, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, ভর্তুকি ও কৃষিঋণ প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।
এছাড়া তারা এলাকার রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়েও ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ ও ধৈর্য্যসহকারে শুনে বললেন, ‘আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের এবং দেশের সেবা করতে চাই। দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও যোগ করেন, কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নতমানের বীজ, সার ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের মাধ্যমে কৃষিকে আরও টেকসই, উৎপাদনশীল ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা আরও কার্যকর করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং কৃষক কার্ড প্রাপ্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
‘কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ এবং সরকার সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে’, যোগ করেন তিনি।
কায়সার কামাল জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।




