জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার প্রস্তাব, যা বলছেন বিশ্লেষকরা

জাতীয় সংসদ
দেশের প্রচলিত অর্থবছর ‘জুলাই-জুন’ পরিবর্তন করে ‘জানুয়ারি-ডিসেম্বর’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকারিতা বাড়বে।
আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।
সংসদ অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলছিলেন, বর্তমানে অর্থবছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হওয়ায় শেষদিকে বর্ষা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অর্থবছরকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও আর্থিক পরিকল্পনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও অধিক কার্যকর হবে।
এ ছাড়া অর্থবছর শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট পেশ করা এবং চার মাস পরপর সংসদে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তবে অর্থবছর পরিবর্তনের এই প্রস্তাবকে যৌক্তিক মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছরের সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন, কর সংগ্রহ এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ব্যবস্থাপনা গভীরভাবে সংযুক্ত। হঠাৎ করে এই কাঠামো পরিবর্তন করলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, অথচ তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো নেট সুবিধা পাওয়া যাবে না।’
বর্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এখন প্রায় অসম্ভব। অর্থবছর পরিবর্তন করলেও বছরের শেষভাগে কাজের চাপ বা ব্যাকলগের সমস্যা থেকেই যাবে।
এ বিষয়ে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সাবেক সভাপতি এএসএম শায়খুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে জুলাই-জুন অর্থবছর চালু রয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব খাতে একটি অভ্যাস গড়ে উঠেছে। এটি পরিবর্তন করলে সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটবে।





