আগামীর সময়

সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আজ সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়সহ এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনেক মিল রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতার ধারক হিসেবে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রত্নতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প, জাদুঘর ও গ্রন্থাগার কার্যক্রমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করা যেতে পারে।

তিনি পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন, লালন শাহের দর্শন ও সংগীতধারা, কুঠিবাড়ি এবং হাসন রাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার এ সময় টেক্সটাইল আর্ট, জাদুঘর কার্যক্রম, থিয়েটার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও সংরক্ষণে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পুনরুদ্ধার (রেস্টোরেশন) ও সংরক্ষণ (কনজারভেশন) কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।

এছাড়া দুই দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। দুই বাংলার লেখক সম্মিলন, কবিতা সম্মেলন এবং শিক্ষাভিত্তিক ও যুবসংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। সংগীত, শিল্পকলা ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ইলিয়া সুমনা এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    শেয়ার করুন: