আগামীর সময়

শাহবাগে থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ, সাংবাদিকসহ আয়োজকদের মারধর

শাহবাগে থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ, সাংবাদিকসহ আয়োজকদের মারধর

আয়োজক ইমিসহ কয়েকজন। ছবি ফেসবুক

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় দফায় দফায় হেনস্থা ও মারধর করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতাসহ দুজনকে। মারধর করা হয়েছে সাংবাদিককেও।  শনিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে ভাষণ বাজানোর সময় একদল যুবক এসে বাধা দেয়। পরে একজন ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি চলতে থাকে।

পরে রাত পৌনে ১১ টার দিকে দুজনকে মারধর ও হেনস্থা করা হয়। এর আগে ফেসবুকে শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর এ কর্মসূচির ডাক দেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন। গত সেপ্টেম্বরে ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।

এদিন বিকেলে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় দুজনকে আটকের প্রতিবাদে ফেসবুকে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ইমি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে আরো কয়েকজন আসেন।

রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এসময় আয়োজকরা বাধা দিলে হাতাহাতি হয়। শাহবাগ থানার ভেতরে কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় একজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়। কালের কণ্ঠের সাংবাদিক লাইভ করার সময় তাকেও আঘাত করা হয়। ওই সময় কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ফেসবুক লাইভেও বলছিলেন, ' আমাকে মারা হয়েছে, আমার চোখে আঘাত করা হয়েছে।'

এ ঘটনার পরে ইমিসহ অন্যরা জাদুঘরের সামনেই থেকে যান। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।

ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। মারধর করা হয় ইমিকেও। পরে সেখান থেকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ধরে তাদের টেনে-হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, "আমরা এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিব।" ইমি ও মামুনকে আটক রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলছিলেন, , “ইমি-সালেহিনরা ছাত্রলীগের চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’। তারা ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাই আমরা ইমিকে রিকশাসহ টেনে নিয়ে এসেছি; পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন তারা কী করে দেখার বিষয়।

    শেয়ার করুন: