রংপুরের শ্যামাসুন্দরী এখন মশা উৎপাদনের কারখানা

সংগৃহীত ছবি
রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল এখন মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানিতে খালটির নাব্যতা হারিয়ে গেছে। ফলে একসময়ের আশীর্বাদ এখন নগরবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। সামনে এডিস মশার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় শ্যামাসুন্দরী থেকে মশার বিস্তার নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন নগরবাসী।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চলছে। উড়ন্ত মশা দমনে অ্যাডাল্টিসাইড (ম্যালাথিওন) এবং লার্ভা দমনে টেমিফস ৫০ ইসি প্রয়োগ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের ৭২টি ফগার ও ২০টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন রয়েছে। তিন সুপারভাইজারসহ ৩০ জন শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আট সদস্যের কুইক রেসপন্স টিমও গঠন করা হয়েছে।
তবে নগরবাসীর অভিযোগ, রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়লে দু-এক দিন ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হয়। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে মূলত সাবেক পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরী খালটি কেল্লাবন্দের ঘাঘট নদ থেকে শুরু হয়ে ধাপ, পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর ও বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটে গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া, অবৈধ দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি অনেক স্থানে সংকীর্ণ এবং ভরাট হয়ে গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, খালটির সংস্কার ও দূষণমুক্ত করতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।
নদী গবেষক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেছেন, শ্যামাসুন্দরী রংপুর মহানগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম, যা এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিন দিন বেদখল হচ্ছে জায়গা। এর মধ্যে প্রশাসন ৭০ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করলেও কাজের আর অগ্রগতি হয়নি। শ্যামাসুন্দরীকে পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ বাড়ানো না গেলে পুরো নগরবাসী চরম বিপদে পড়বেন, নগর জুড়ে সারা বছর সৃষ্টি হবে জলাবদ্ধতার।
ইসলামপুর এলাকার নুরুন্নাহার বেগম বলেছেন, শুধু ওষুধ স্প্রে নয়, খালটি স্থায়ীভাবে পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করতে হবে।
খাল দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারসহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
—মাহফুজ উন নবী ডন
প্রশাসক
রংপুর সিটি করপোরেশন
শাপলা চত্বরের ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল বলেছেন, বর্ষায় খালের নোংরা পানি বাড়িতে ঢোকে, পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৪ সালে মহারাজা জানকী বল্লভ সেন ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও তার মা শ্রীমতী শ্যামাসুন্দরী সেনের স্মৃতি রক্ষায় খালটি খনন করেন। ২০১২ সালে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সরকার ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও খালটির দুরবস্থা কাটেনি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সিটি করপোরেশনে প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন কাজ করছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ২০০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড এবং ৫০ লিটার টেমিফস ৫০ ইসি ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। ৭২টি ফগার মেশিন ও ২০টা হ্যান্ড স্প্রে মেশিনে মশা নিধন কার্যক্রম চলমান। নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারসহ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






